গলার টনসিলের কি করবেন সমস্যা সমাধান ?

আসসালামু আলাইকুম আজকে আমরা এই আর্টিকেলে পড়বো গলার টনসিল হলে কি করনীয় সমস্যার সমাধান। গলায় ব্যথা হলেই আমরা বলে দিই, তোমার তো টনসিল হয়েছে। তো এই টনসিলটা কী? টনসিল হলো আমাদের শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থার একটা অংশ এবং আমাদের মুখের ভেতরেই চারটি গ্রুপে তারা অবস্থান করে।










পোস্টের সূচিপত্রঃ

  • টনসিলের সমস্যা ও টনসিল বিষয়ের নামঃ
  • টনসিলের রোগের লক্ষণ কেমন হয়ঃ
  • কি কি কারণে টনসিলের সমস্যা হতে পারেঃ
  • টনসিল হলে কি করবেন ৮ টি চিকিৎসা আছে জেনে নিনঃ
  • কী কী কারণে টনসিলের অস্ত্রোপচার হয় বা করা যাবেনা ঃ
  •  গলার সমস্যা ও পরামর্শ নিনঃ
  • গলার প্রধানত তিনটি সমস্যা জেনে নিন কি কি হতে পারেঃ
  • শেষ কথাঃ





টনসিলের সমস্যা ও টনসিল বিষয়ের নামঃ

আসসালামু আলাইকুম আজকে আমরা এই আর্টিকেলে পড়বো. টন ছিল সমস্যা ও টনসিলের নাম।

এদের নাম লিঙ্গুয়াল, প্যালাটাইন, টিউবাল ও অ্যাডেনয়েড। এই টনসিলগুলোর কোনো একটির প্রদাহ হলেই তাকে বলে টনসিলাইটিস। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান খবিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘টনসিল বলতে আমরা সচরাচর যা বুঝি, তা কিন্তু আসলে টনসিলাইটিস।


টনসিলাইটিস যে শুধু শিশুদের হয়, তা নয়। এটা শিশুদের বেশি হলেও যেকোনো বয়সেই হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের এবং বিদ্যা বয়সে এইট টনসিলের সমস্যা বেশি দেখা যায। আমরা জানি টনসিল হয় সাধারণভাবে গলায়। টনসিল হলে আমরা কিছু খাবার খেতে পারি না কারণ গলায় প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হয়। তাই বিশেষ করে আমরা বলব কুসুম গরম পানি এবং লবণ দিয়ে গলা ওয়াশ করালে বা করকরারে। এতে অনেক সমস্যা সমাধান হতে পারে।

তাও যদি আপনাদের টনসিলের সমস্যা হয় তাহলে বিশেষ করে গলায় মাফলার বা কাপড় পেঁচাতে হবে।

তা না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।


আর প্যালাটাইন টনসিলই সবচেয়ে বেশি প্রদাহ সৃষ্টি করে, ফলে গলা ব্যথা হয়।এই প্রদাহ সাধারণত দুই ধরনের হয়। একটি তীব্র বা অ্যাকিউট। আর অন্যটি দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক টনসিলাইটিস।



টনসিলের রোগের লক্ষণ কেমন হয়ঃ


* তীব্র গলাব্যথা।

* মাথাব্যথা, উচ্চ তাপমাত্রা।

* খাবার খেতে কষ্ট ও মুখ হাঁ করতে অসুবিধা হয়।

* কানে ব্যথা হতে পারে।

*মুখ দিয়ে লালা বের হয় ও কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যেতে পারে।মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে।

* স্বরভঙ্গ,গলায় ঘাসহ টনসিল স্ফীতি,ঢোঁক গিলতে কষ্ট হয়,গলা ফুলে যাওয়া।


কি কি কারণে টনসিলের সমস্যা হতে পারেঃ



  • পুষ্টির অভাব
  • আইসক্রিম
  • ফ্রিজে রাখা শীতল পানি, বেশি পান করা টনসিলের এর জন্য ক্ষতি কার হতে পারে

স্যাঁতসেঁতে স্থানে বাস করলে, আবহাওয়ার পরিবর্তনে শীতের প্রকোপ বেশি হলে, রোদ থেকে এসে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করলে, গরমে ঘাম বসে গেলে টনসিলের প্রদাহ বেড়ে যেতে পারে। 

তাই আমরা বলব এগুলো থেকে আপনারা দূরে থাকুন তাহলে আপনাদের টনসিলের সমস্যা হবে না।


** আরো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন আমাদের আটিকেলটি?:/?


আরো পড়ুনঃ কানের পর্দা ফেটে গেলে কিভাবে বুঝবেন কি করনীয়ঃ


টনসিল হলে কি করবেন ৮ টি চিকিৎসা আছে জেনে নিনঃ


১. প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।


২.পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে।


৩.পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে যত দিন সুস্থ না হবে।


৪.মুখের হাইজিন (মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য) বা ওরাল হাইজিন ঠিক রাখতে হবে।


৫.এটাকে মাউথ ওয়াশ বলা হয়, যা দিয়ে বারবার কুলি করতে হবে।


৬. স্যালাইন বা লবণ মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে বারবার কুলি করতে হবে।


৭.লেবু বা আদা চাও খেতে পারেন।


৮.গলায় ঠান্ডা লাগানো যাবে না।


যেহেতু তীব্র ব্যথা থাকে এবং জ্বর থাকে, সে ক্ষেত্রে জ্বরের ওষুধসহ কিছু ওষুধ দেওয়া হয় এবং এটা ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হতে পারে।

ওষুধ নিয়মিত খেলে ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যায় এবং রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।


দীর্ঘমেয়াদি টনসিলাইটিসের চিকিৎসা সাধারণত অস্ত্রোপচার। যদি বারবার টনসিলাইটিস হয় বা এর জন্য অন্য কোনো জটিলতার সৃষ্টি হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে টনসিল কেটে বা অস্ত্রোপচার করে ফেলাই ভালো।




কী কী কারণে টনসিলের অস্ত্রোপচার হয় বা করা যাবেনা ঃ


✦ দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক টনসিলাইটিস

✦ টনসিল বয় হয়ে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে গেলে এবং নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হলে।

✦ টনসিলে যদি ফোঁড়া হয়, অর্থাৎ ইনফেকশন হলে।

✦ যদি বছরে চার-পাঁচবারের বেশি টনসিল ইনফেকশন হয়।

✦ এসব কারণ ছাড়াও যদি দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক ক্রিপটোকঙ্কাল ইনফেকশন হয়


কখন অস্ত্রোপচার করা যাবে না


✦ অ্যাকিউট ইনফেকশন থাকলে টনসিলে অস্ত্রোপচার করা যাবে না। কারণ, তখন ইনফেকশন সারা শরীরে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং রক্তপাত বন্ধ না-ও হতে পারে।

✦ জ্বর বা ব্যথা থাকা অবস্থায় করা যাবে না।

✦ যদি কারও রক্তরোগ থাকে, যেমন থ্যালাসেমিয়া। রক্তনালি এবং রক্তরোগ থাকলে টনসিলে অস্ত্রোচার করা যাবে না।এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অস্ত্রোপচার করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে যদি করতেই হয়, তাকে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এনে অস্ত্রোপচার করতে হবে।

ডায়াবেটিস থাকলে অস্ত্রোপচার করা যাবে না। অস্ত্রোপচারের আগে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেআনতে হবে



আরো পড়ুনঃ মেয়েদের ঘরে বসে আয় করা ৩০ টি উপায়ঃ


 গলার সমস্যা ও পরামর্শ নিনঃ


সমস্যা কি জেনে নিঃ


আমার বয়স ২৯ বছর। উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি এবং ওজন ৫০ কেজি। আমার প্রধান সমস্যা হলো, গলার আলজিহ্বার পাসের নরম তালুতে দুই পাশে দুটি গুটির মতো দেখা যায়। তা থেকে এক ধরনের হলুদ ধরনের ময়লা বের হয়।






যখন ময়লা বের হয়ে আসে, তখন টিপ দিলে হাতে মিশে যায় এবং তা থেকে দুগর্ন্ধ বের হয় এবং গুটির মধ্যে ময়লা জমে থাকে। প্রতিদিন ময়লা বের হয় না।
 মাঝেমধ্যে নিজে থেকেই বের হয়।সব সময় মনে হয়, গলায় কিছু আটকে আছে।এমনিতে কোনো সমস্যা হয় না। তবে মুখে দুর্গন্ধ থাকে। 
ব্রাশ করলেও কয়েক ঘণ্টা পর আবার দুর্গন্ধ হয়ে যায়। আমার অনেক দিন ধরেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে। রাতে গলার আওয়াজ ভেঙে যায়। এ সমস্যার সমাধান কী?


পরামর্শ জেনে নিনঃ

লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, আপনার গলায় ক্রনিক টনসিলাইটিস ধরনের রোগ আছে।

এ রোগে টনসিলে এক রকম দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা আসতে পারে।এ ছাড়া টনসিলে কেরাটোসিস নামের রোগেও সাদা ও হলদে ময়লা দেখা যায়। 


ক্রনিক টনসিলাইটিসের চিকিৎসা হলো টসলিলেকটসি বা টনসিল কেটে ফেলে দেওয়া।সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে টসলিলেকটসি করাতে পারেন।

 আপনি যেকোনো হাসপাতাল থেকে এ অপারেশন করাতে পারেন।আর গ্যাসট্রিকের সমস্যার কারণেও রাতে স্বরযন্ত্রে সমস্যা হতে পারে।রাতের খাবার ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত তিন ঘণ্টা আগে খাবেন এবং মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

কি অবস্থা প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে সরাসরি পরামর্শ নিন।



গলার প্রধানত তিনটি সমস্যা জেনে নিন কি কি হতে পারেঃ


টনসিলের ইনফেকশনঃ


আরো পড়ুনঃ ২০ টি উপায়ে অনলাইন ফ্রিল্যান্সি শিক্ষার আয় করার নিয়ম;


নাক কান ও গলা শরীরের এই তিনটি অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি হতে পারে।সাধারণ হাঁচি-সর্দি থেকে শুরু করে গলার ক্যান্সার সবই রয়েছে এই তালিকায়।স্বল্পপরিসরে সেইসব রোগের কয়েকটি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হল


গলার টনসিলের ইনফেকশনঃ


সবচেয়ে পরিচিত এই টনসিলের সমস্যা। এটি মূলত শিশুদের সমস্যা। বড়দেরও হয়।


টনসিলের সমস্যায় গলাব্যথা,খেতে গেলে ব্যথা,সামান্য জ্বর ইত্যাদি থাকে। প্রথমত ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। বারবার হতে থাকলে সম্যক জটিলতা ও কষ্টের কথা বিবেচনা করে টনসিল অপারেশন করিয়ে নিতে হয়। সারা পৃথিবীতে শিশুদের যত অপারেশন হয় তারমধ্যে টনসিল অপারেশনের অবস্থান সবার শীর্ষে।


এডিনয়েড বড় হওয়া তা কি ঃ


এটি শিশুদের রোগ। নাকের ছিদ্রের পিছন দিকে যে অঞ্চলটি রয়েছে সেখানে এই এডিনয়েড নামক লসিকা গ্রন্থির অবস্থান। এটি অনেক সময় বড় হয়ে নাক আংশিক বন্ধ করে দেয়ে ফলে নাক দিয়ে অধিকাংশ সময়েই সর্দি ঝরে।


কানের সাথে নাকের পিছনের অংশের যোগাযোগরক্ষাকারী টিউবটির মুখও আংশিকভাবে বন্ধ থাকে। ফলে কানও বন্ধ থাকে।কানের মধ্যে পানির মত তরল জমে কান ব্যথা করে। এডিনয়েড বড় হলে শিশু মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়। ঘুমের মধ্যে শ্বাসবন্ধ হয়ে জেগে ওঠে। রোগীর চেহোরা ক্রমশ হাবাগোবা হয়ে পড়ে।অনেক অভিভাবকই এ সমস্যাটির ফলে সৃষ্ট ক্ষতি অনুধাবন করেন না। ফলে শিশুর অনেক ক্ষতি হয়। অপারেশনই হচ্ছে এর একমাত্র চিকিৎসা।



ভোকাল কর্ডে পলিপঃ


এটি শ্বাসতন্ত্রের অনর্-গত সমস্যা। গলায় স্বর তৈরির স্থানটি হচ্ছে ল্যারিংস। সেখানেই থাকে ভোকাল কর্ড।কর্ড দুটির কাঁপুনিতেই সৃষ্টি হয় শব্দ।ভোকাল কর্ড বেশি ব্যবহৃত হলে এবং ল্যারিংসে ইনফেকশন হলে গলার স্বর ভেঙ্গে যায়।


স্বরভঙ্গের প্রথম চিকিৎসা হচ্ছে ৭-১০দিন কথা বলা সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ করে দেয়া। স্বরের পরিমিত বিশ্রামের অভাবে গলা ভাঙ্গলে ভোকাল কর্ডে দানার মতো দেখা দেয়। যাকে বলা হয় ভোকাল কর্ড।


স্বর ব্যবহারকারী যেমন-

সঙ্গীত শিল্পী,

শিক্ষক এদের ভোকালকর্ডে পলিপ বেশি দেখা দেয়।পলিপ হলে চিকিৎসা অপারেশন।


গলায় ক্যান্সারঃ


এ ক্ষেত্রে ল্যারিংসের ক্যান্সারকেই বোঝানো হয়েছে। খাদ্যনালীর ক্যান্সারকেও গলায় ক্যান্সার বলা যেতে পারে। ল্যারিংসের ক্যান্সার বলতে শ্বাসতন্ত্রের যেখানে থেকে স্বর তৈরি হয় সে অঞ্চলের ক্যান্সারকে বোঝায়।


আর খাদ্যনালীর ক্যান্সার বলতে বোঝায় খাদ্যনালীর উপরের অংশের ক্যান্সারকে বোঝানো হয়।


ল্যারিংসের ক্যান্সার হলে তাই গলার স্বর পরিবর্তন হয়ে যায়, সমস্যা তীব্র হয়ে শ্বাসনালী বন্ধ করার উপক্রম হলে শ্বাস কষ্ট শুরু হয়। অন্যদিকে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের সমস্যা শুরু হয় গলায় ব্যথা ও খেতে অসুবিধা হওয়ার মধ্য দিয়ে।


সমস্যা তীব্র হলে খাদ্যনালী বন্ধের উপক্রম হলে রোগী কিছুই খেতে পারে না। অবস্থাভেদে এর চিকিৎসা- অপারেশন, রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি।



শেষ কথাঃ

আজকে আমরা পড়েছি এ আর্টিকেলে গলা টনসিল হলে কি করনীয় গলার তিনটি সমস্যা কি কি করবেন। কি কি চিকিৎসা নিবেন এ নিয়ে আজকে আমাদের এই আর্টিকেল। যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে আমাদের সাথে থাকবেন আমাদের এই লিংকটি এই অফসাইটি ভিজিট করবেন ধন্যবাদ।..[??]





Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url