লেবু মধু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় গুলো জেনে নিন?

আসসালামু আলাইকুম আজকে আমরা জানবো মধু ও লেবুর উপকারিতা। আমরা জানি লেবু ও মধু অনেক উপকার করে থাকে। ওজন কমাতে অনেকে অনেক কিছু পান করেন বা খান। যেমন : ওজন কমানোর চা, সোনাপাতা, ওজন কমানোর ওষুধ ইত্যাদি। এগুলোর কোনো কার্যকারিতা আছে কিনা তা সন্দেহ আছে। থাকলেও এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। কিন্তু প্রাকৃতিক উপাদান মধু ও লেবু আসলেই যে কার্যকরী, তা পরীক্ষিত এবং সারা বিশ্বে সমাদৃত ও স্বীকৃত । ওজন কমাতে দুটি প্রাকৃতিক উপাদান লেবু ও মধুর পানীয় সম্পর্কে অনেকেই জানেন । ওজন কমানো ছাড়াও লেবু ও মধুর অনেক গুণাগুণ আছে।


  • .কি ভাবে ওজন কমায কেন ওজন কমায়ঃ
  •  .লেবু-মধু পানীয় বানানোর প্রণালী তৈরি করেঃ
  • .মধুর উপকারিতা কি কিঃ
  • আসুন জেনে নিই মধু ও দারুচিনির ঔষুধি গুণ- ঃ
  • .লেবুর উপকারিতা কি কি ঃ
  • .যেনে নিই লেবুর গুনাগুন ঔষধ কিকিঃ
  • .কখন খাবেন তা যেনে নেনঃ
  • .কি কি করবেন না সাবধানতাঃ








.কি ভাবে ওজন কমায কেন ওজন কমায়ঃ


মধুতে যদিও চিনি থাকে, কিন্তু এতে ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে এটি সাধারণ চিনির মতো ওজন না বাড়িয়ে কমায়। কারণ সাধারণ চিনি হজম করতে আমাদের শরীর নিজের থেকে ভিটামিন ও মিনারেল খরচ করে, ফলে এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়। এসব উপাদান ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কমাতে বা ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে যখন আমরা বেশি চিনি খাই, তখন অধিক ক্যালরি শরীরে জমা ছাড়াও এসব পুষ্টি উপাদানের চিনি হজম করতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়। তাই ওজন বাড়াতে পারে। কিন্তু মধুতে এসব উপাদান থাকার ফলে এগুলো হজমে সহায়ক এবং ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কমায়। তাই এই পানীয় ওজন কমায়। তাছাড়া সকালে উঠেই শরীর যদি পানি জাতীয় কিছু পায়, তবে তা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে একই রকম শারীরিক পরিশ্রম করেও আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধির কারণে ওজন কমতে পারে।


 .লেবু-মধু পানীয় বানানোর প্রণালী তৈরি করেঃ


এক গ্লাস হালকা বা কুসুম গরম পানি, আধা চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধু। গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে পান করুন লেবু-মধু পানীয়। আপনি চাইলে এর সঙ্গে সবুজ চা মেশাতে পারেন।


আরো পড়ুনঃ তুলসী গাছের উপকারিতা কি কি


যা লক্ষ্য রাখবেন

আগে পানি হালকা গরম করে তারপর লেবু ও মধু মেশাবেন। মধু

কখনোই গরম করতে যাবেন না।

—যদি ঠাণ্ডা পানিতে এটি পান করেন, তবে বিপরীত ফল হবে, মানে

আপনার ওজন বাড়বে।

লেবু-মধু পানীয়ের উপকারিতা

— এই পানীয় শরীর থেকে টক্সিন বের করে। শরীরের ভেতরের

নালীগুলোর সব ময়লা বের করে দেয়।মেটাবলিজম/হজম শক্তি বাড়ায়, ফলে ওজন কমে। ঠাণ্ডা লাগলে এই

পানীয় কফ বের করতে সাহায্য করে এবং ঠাণ্ডা লাগলে গলাব্যথা

করলেও এটি উপকারী ।

 এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

— শরীরে শক্তি বাড়ায়, অলসতা কমায়।

— কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

মধুর উপকারিতা

মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ আলাদাভাবে থাকে, কিন্তু চিনিতে তা একসঙ্গে থাকে। ফ্রুকটোজ তাড়াতাড়ি গ্লুকোজের মতো শরীরে ক্যালরি হিসেবে জমা হয় না। তাই চিনির মতো মধু সহজে ক্যালরি জমা করে না। ফলে অল্প মধু খেলেও ওজন বাড়ার সম্ভাবনা কম।

মধু শরীরকে রিলাক্স করে, মনকে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে এবং সহজে ঘুম আনতে সাহায্য করে।

মধু একটি প্রাকৃতিক এন্টি বায়োটিক, যা শরীরের সব ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে ইনফেকশন দূর করে। ফলে শরীরের কাজ করার প্রণালী উন্নত হয় এবং হেলদি থাকে।

মধু হজমে সহায়ক। তাই বেশি খাবার খাওয়ার পরে অল্প মধু খেতে পারেন


.মধুর উপকারিতা কি কিঃ


মধু ফ্যাট কমায়, ফলে ওজন কমে।


*মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয়।

*চোখের জন্য ভালো।

*গলার স্বর সুন্দর করে।

*শরীরের ক্ষত দ্রুত সারায়।

*আলসার সারাতে সাহায্য করে।

*নালীগুলো পরিষ্কার করে।

*ঠাণ্ডা লাগলে জ্বর, গলাব্যথায় ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

*মধু এন্টি অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ

পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।

*বুদ্ধিবৃত্তি বাড়ায়।

*শরীরের সামগ্রিক শক্তি বাড়ায় ও তারুণ্য বাড়ায়।



আরো পড়ুনঃ শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায়


.আসুন জেনে নিই মধু ও দারুচিনির ঔষুধি গুণ- ঃ


 ১. দারুচিনি ও মধুতে থাকা একাধিক উপকারী উপাদান মুখ গহ্বরে ক্ষতিকর ও দুর্গন্ধ তৈরিকারী জীবাণু ধ্বংস করে। আর মুখে গন্ধ দূর হওয়ার সঙ্গে দাঁত ও মাড়ি সম্পর্কিত নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। মুখের ভেতরের এ উপকার পেত প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ দিন নিয়ম করে এক গ্লাস গরম পানিতে আধা চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে হবে। 


 ২. ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা কমানোর মধ্য দিয়ে হৃদস্বাস্থ্যের উন্নতিতে দারুচিনি এবং মধু খুব ভালো কাজ করে। আর মধুতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রের ভেতরের প্রদাহ কমাতে কার্যকর। ফলে কমে যায় হার্টঅ্যাটাকের সম্ভাবনা। 


 ৩. বেশ কিছু গবেষণা থেকে দেখা গেছে, সকালে নিয়মিত গরম পানিতে মধু ও দারুচিনি মিশিয়ে পান করলে অতিরিক্ত চর্বি কমবে। ফলে ওজন কমবে। এ ছাড়া দারুচিনির গুঁড়া আলাদাভাবে তলপেট ও কোমরের বাড়তি মেদ কমাতে কাজ করে। 


 ৪. মধুতে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বের করে ক্যানসার কোষের জন্ম প্রতিরোধ করে। আর দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টি-টিউমার উপাদান শরীরে টিউমার হতে প্রতিরোধ করে। 


 ৫. বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দারুচিনি এবং মধু গ্রহণে পেটে জমে থাকা গ্যাস বেরিয়ে যায়। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি হয়। 


 ৬. ব্লাডারে সংক্রমণ ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি থেকে দেখা দেয় ব্লাডার ইনফেকশনের সমস্যা। এক চা চামচ দারুচিনির গুঁড়া ও আধা চা চামচ মধু এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে পান করলে এই রোগে উপকার পাওয়া যাবে।



.লেবুর উপকারিতা কি কি ঃ


লেবুতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা এন্টিসেপটিক ও ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করে

*লেবুর এই উপাদানগুলো টনসিল প্রতিরোধ করে

*এছাড়া লেবুর ভিটামিন সি ক্যান্সারের সেল গঠন প্রতিরোধ করে।

*লেবু বুক জ্বালা প্রতিরোধ করতে ও আলসার সারাতে সাহায্য করে।

*লেবু আর্থাইটিসের রোগীদের জন্য ভালো ।

*লেবু শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে।

*লেবু এন্টিঅক্সিডেন্ট। তাই ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ত্বক

পরিষ্কার রাখে, অপহব দূর করে। ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।

কালোদাগ ও ত্বকের ভাঁজ পড়া কমায়।

*লেবু ওজন কমাতে সাহায্য করে।

*লেবু হজমে সহায়ক ও হজমের সমস্যা দূর করে।

*কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

*শরীরের ভেতরের টক্সিন দূর করে, অন্ত্রনালী, লিভার ও পুরো শরীরকে

পরিষ্কার রাখে।

*পেট ফোলাজনিত সমস্যা কমায়।

*রক্ত পরিশোধন করে।

*ঠাণ্ডা লাগলে জ্বর, গলাব্যথায় ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

*শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি হলে ভালো কাজ করে।

*শ্বাসনালীর ও গলার ইনফেকশন সারাতে সাহায্য করে।



আরো পড়ুনঃ নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি


.যেনে নিই লেবুর গুনাগুন ঔষধ কিকিঃ


 লেবু হল সাaইট্রাস লিমন (Citrus limon) সাধারণ নাম। বংশবৃদ্ধিকারী টিস্যু আবৃতবীজীলেবুর বীজকে ঘিরে রাখে। লেবু রান্না করে বা রান্না না করে - উভয়ভাবেই খাওয়া হয়। ফল এর কদর মূলত রসের জন্যেই , যদিও এর শাঁস ও খোসাও ব্যবহৃত হয়, প্রধানত রান্না ও বেকারির কাজে। লেবুর রসে প্রায় ৫ শতাংশ (প্রতি লিটারে ০.৩ মোলের কাছাকাছি) সাইট্রিক এসিড থাকে যার কারণে এর স্বাদ টক হয় এবং pH ২-৩ হয়। লেবু ভিটামিন ‘সি’তে ভরা। এই সাদাসিধে তথ্যটা তো আমরা সবাই জানি। অতিপরিচিত এই লেবুর আছে অনন্য সব রোগপ্রতিরোধী গুণ। কী সেই গুণ? কেনই বা লেবুকে যত্ন করে খেতে হবে? আদ্যোপান্ত জানতে কথা বলেছিলাম পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক আলেয়া মাওলার সঙ্গে। তিনি জানালেন, প্রতিদিনই নিয়ম করে লেবু খাওয়া উচিত। লেবু একদিকে যেমন রোগপ্রতিরোধী, অন্যদিকে শরীরকে সুরক্ষাও দেয়। ছোটবেলা থেকেই লেবু খাওয়ায় অভ্যস্ত হতে হবে। শরীরে ভিটামিনের চাহিদাও মিটবে, আবার রোগের বিরুদ্ধেও লড়তে সাহায্য করবে লেবু। 


 গলাব্যথায়


 কখনো ঠান্ডা লেগে আবার কখনো সংক্রমণে গলাব্যথা হয়। হাত-পা ছড়িয়ে বসে থাকলে এই ব্যথা ক্রমে বাড়তেই থাকে। এই ব্যথা কমাতে লেবুর রস বেশ উপকারী। হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে কুলকুচি করুন। কমবে গলাব্যথা। 


 শ্বাসকষ্টে


 যাঁদের হালকা শ্বাসকষ্ট আছে, তাঁরা নিয়ম করে খাবারের আগে এক চামচ লেবুর রস খেতে পারেন। যাঁরা মাইল্ড অ্যাজমায় ভুগছেন, লেবুর রস তাঁদের জন্য ওষুধের বিকল্প হিসেবেই কাজ করবে। 


 লিভারের সমস্যায়

 যাঁরা লিভারের সমস্যায় ভুগছেন দীর্ঘদিন, তাঁরা লেবু খাবেন নিয়ম করে। উষ্ণ কিংবা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে সকালে খাবারের আধা ঘণ্টা আগে খেয়ে নিন, উপকৃত হবেন


। সর্দি-কাশিতে


 ঋতুর পালাবদলের সময় প্রকৃতিতে যে পরিবর্তন লাগে, তাতে হঠাৎ করে শরীর মানিয়ে নিতে পারে না। লেগে যায় সর্দি-কাশি। এই সর্দি-কাশির বিরুদ্ধেও লড়তে পারে লেবু। তাই সর্দি-কাশিতে হাতের কাছেই রাখুন লেবু। 


 আর্থ্রাইটিস


 আর্থ্রাইটিস হলো হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা, আবার কখনো ফুলে যায় সংযোগস্থলগুলো। বড্ড বিরক্তিকর এই রোগ উপশমের ভালো দাওয়াই কিন্তু লেবু। লেবুতে আছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি গুণ যা আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। 


 রোদে পোড়া ত্বক


 লেবুর উপাদানগুলো একদিকে যেমন আমাদের ত্বকের সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে তীব্র রোদে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দেখভালেও লেবু অত্যন্ত কার্যকরী। তাই লেবু তো খাবেনই, সেই সঙ্গে রোদে পুড়ে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হলে পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে ক্ষত স্থানে লাগান, ভালো হয়ে যাবেন। 


 হজমে লেবু


 উৎসবে-পার্বণে এ বাড়ি-ও বাড়ি ঘুরে বেশি খাওয়া হয়ে গেছে! স্বস্তি পেতে লেবু খেয়ে নিন। দ্রুত হজমে সাহায্য করবে। আরেক বাড়ি দাওয়াত খাওয়ার প্রস্তুতিও নিতে পারবেন অল্প সময়ে। 



আরো পড়ুনঃ ইসলামের প্রথম মসজিদ কোনটি



 ওজনও কমবে লেবুতে


 আয়েশ করে ভূরিভোজের পর লেবু খেয়ে নিন। খাবারগুলো হজমে সাহায্য তো করবেই, উপরন্তু শরীরে চর্বি জমতে বাধা দেবে লেবু। বুঝতেই পারছেন, নিয়ম করে লেবু খেলে আপনার ওজনও কমবে।



.কখন খাবেন তা যেনে নেনঃ


সাধারণত সকালে উঠেই প্রথম পানীয় হিসেবে খালি পেটে এটি খাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরে সকালের নাস্তা খেতে পারেন।


.কি কি করবেন না সাবধানতাঃ


যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারা অবশ্যই এটি খালি পেটে খাবেন না। কারণ লেবু এসিডিক। তাই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে এটি খাবেন।

তাছাড়া লেবুর এসিড দাঁতের এনামেলের জন্য ক্ষতিকর, তাই এই পানীয় খাবার সঙ্গে সঙ্গে কুলি করবেন, অথবা পানি খাবেন।

একটা কথা মনে রাখবেন, ওজন কমানোর জন্য এই পানীয় শুধুই সহায়কমাত্র। সম্পূর্ণ ওজন কমানোর প্রক্রিয়াতে অবশ্যই থাকতে হবে স্বাস্থ্যকর/ব্যালেন্সড ডায়েট, নিয়মিত শরীর চর্চা এবং স্বাস্থ্যকর

 জীবনযাত্রা।






Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url