প্রাকৃতিক উপায়ে কিভাবে কিডনি ও ক্যান্সার সমস্যা দূর করবেন

মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে কিডনি অন্যতম। মানুষের শরীরে দুইটি কিডনি থাকে যেগুলো শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ছেকে ফেলি। কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক। বাংলাদেশ কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগী সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিবছর অনেক মানুষ এই রোগে মৃত্যুবরণ করে। এই  ধরনের রোগের চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল।






  • কিডনি/গল ব্লাডার স্টোন/ওভারির সিস্ট থেকে মুক্তি দেবেঃ
  • ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় কিভাবে দেখেনঃ
  • আজ জেনে নিন কিডনির ভালো রাখার ১০ টি উপায়ঃ





আজ জেনে নিন কিডনির ভালো রাখার ১০ টি উপায়ঃ


১.পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুনঃ আট গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি খাওয়া পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাথর হয় না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে।


২.লবণ কম খানঃ খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কিডনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মানুষের শরীরে প্রতিদিন মাত্র এক চা চামচ লবণের চাহিদা থাকে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করার অভ্যাস করুন


৩.রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখুনঃ রক্তচাপ ১৪০ / ৯০ এর উপরে থাকলে কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই কিডনি ভালো রাখতে রক্তচাপ সবসময় ১৩০/৮০ অথবা এর কম রাখার চেষ্টা করুন। রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা ও লবণ কম খাওয়া জরুরী


৪.ডাইভেসি নিয়ন্ত্রণ রাখুনঃ ডিভোর্সে নিয়ন্ত্রণের না রাখলে কিডনি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত রক্তের সুগারের পরিমাণ পরীক্ষা করান। সুগার বেশি থাকলে মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন.



আরো পড়ুনঃ সকালে কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা দেখে নিন



৫. মদ্যপান করাঃমদ্যপান কিডনির জন্য সব চাইতে বেশি ক্ষতিকর। অ্যালকোহল কিডনি আমাদের দেহ থেকে সঠিক নিয়মে নিস্কাশন করতে পারে না।ফলে এটি কিডনির মধ্যে থেকেই কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে কিডনি নষ্ট করে দেয়। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগে আক্তান্ত হন অনেকেই।এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। তাই মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন।


৬.পর্যাপ্ত পানি পান না:- করা কিডনির সুরক্ষার জন্য সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পানি। আমরা অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করি না। এতে ক্ষতি হয় কিডনির।

বাসা থেকে বাইরে বের হলেই অনেকের পানি পানের কথা মনে থাকে না। কিন্তু এতে কিডনির ওপর অনেক বেশি পরিমাণে চাপ পড়ে এবং কিডনি তার সাধারণ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দিনে ৬-৮ গ্লাস পানি পান করা অত্যন্ত জরুরী। তাই সাথে সব সময় পানির বোতল রাখুন।


৭.অতিরিক্ত লবণ খাওয়াঃ অনেকের বাড়তি লবণ খাওয়ার বাজে অভ্যাস রয়েছে। খেতে বসে প্লেটে আলাদা করে লবণ নিয়ে খান অনেকেই।কিন্তু এই অনিয়মটির কারণে অনেক বেশি ক্ষতি হচ্ছে কিডনির। কিডনি অতিরিক্ত সোডিয়াম আমাদের দেহ থেকে নিষ্কাশন করতে পারে না।

ফলে বাড়তি লবনের সোডিয়ামটুকু রয়ে যায় কিডনিতেই। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কিডনি। এমনকি কিডনি ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।


৮.মাংস বেশি খাওয়াঃ অনেকের একটি বড় বাজে অভ্যাস রয়েছে যা হলো মাংসের প্রতি আসক্ততা। অনেকেই শাকসবজি ও মাছ বাদ দিয়ে শুধু মাংসের উপর নির্ভরশীল থাকেন।

এই অনিয়মটিও কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিডনির সুরক্ষার জন্য মাছ ও শাকসবজি অনেক বেশি জরুরী। অতিরিক্ত মাংস খাওয়া কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই খাদ্যাভ্যাসটা ঠিক করুন।


৯.অতিরিক্ত ব্যথানাশক ঔষধ খাওয়াঃ অনেকেই সামান্য ব্যথা পেলেই ব্যথানাশক ঔষধ খেয়ে থাকেন। বিশেষ করে মাথাব্যথার কারণে অনেকেই এই কাজটি করে থাকেন।কিন্তু এটি কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর একটি কাজ। অতিরিক্ত মাত্রায় এই ধরণের ব্যথানাশক ঔষধ কিডনির কোষগুলোর মারাত্মক ক্ষতি করে। এতে পুরোপুরি ড্যামেজ হয়ে যায় কিডনি। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ভুলেও কোনো ব্যথানাশক ঔষধ খাবেন না।



আরো পড়ুনঃ মশা বাহিত রোগ থেকে বাঁচার উপায়

১০.পস্রাব আটকে রাখা ঃঘরের বাইরে বেরুলে অনেকেই এই কাজটি করে থাকেন। মনে করেন খনিক্তা সমত পস্রাব আটকে রাখলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না।

আপাত দৃষ্টিতে এর ক্ষতির মাত্রা ধরা না পরলেও এটি কিডনিকে নষ্ট করে দেয় খুব দ্রুত। পস্রাব আটকে রাখলে কিডনির ওপর অনেক বেশি চাপ পরে এবং কিডনি সাধারণ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

তাই ভুলেও এই কাজটি করতে যাবেন না। বাসায় ফেরার জন্য অপেক্ষা না করে অন্য উপায় খুঁজে নিন। এতে করে কিডনি থাকবে সুস্থ




কিডনি/গল ব্লাডার স্টোন/ওভারির সিস্ট থেকে মুক্তি দেবেঃ


শরীরের নানা সমস্যার সমাধানে আদার উপকারিতা অপরিসীম। তবে আদা শুধু খেয়ে নয়, এর সেঁকও দারুণ কার্যকরী। নানা ব্যাধির উপশমে ম্যাজিকের মত কাজ করে এই আদার সেঁক। রক্ত সরবরাহের উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি পিঠে ব্যাথা, আর্থারাইটিস, পেশি ফুলে যাওয়া কমানো ও কিডনি/গল ব্লাডারে স্টোন এবং গর্ভাশয়ের সিস্ট ও ফাইব্রয়েড গলিয়ে ফেলতে বিশেষ উপকারী এই আদার সেঁক।


গরম আদার জলে ভেজানো কাপড় দিয়ে আদার সেঁক দিতে হয়। কী করতে হবে?

যা যা লাগবে:


১) ১২০ গ্রাম তাজা আদা বা এক টেবল চামচ আদার পাউডার


২) জল


৩) একটি বড় পাত্র


৪) একটি টাওয়েল


৫) ২টো কাপড়


৬) একটি সুতির কাপড়ের ব্যাগ


৭) রবারের গ্লাভস


আরো পড়ুনঃ কানের পর্দা ফেটে গেলে কিভাবে বুঝবেন


কীভাবে তৈরি করবেন?


জলটা গরম করুন, তবে খেয়াল রাখবেন যেন সেটি ফুটে না যায়। এ বার সুতির কাপড়ের ব্যাগটিতে আদাটা ভরে ব্যাগটি গরম জলে দিয়ে দিন। এভাবে ৩-৪ মিনিট সিমে রেখে গ্যাস বন্ধ করে দিন। এ বার হাতে গ্লাভস পরে ব্যাগটি জল থেকে বের করে আনুন আর হাত দিয়ে চেপে চেপে রসটা বের করুন। আপনার আদার জল তৈরি।


কীভাবে সেঁক দেবেন?


এই চিকিত্‍‌সার জন্য আপনার সময় লাগবে ৩০ মিনিট। একটি টাওয়েল গরম আদার জলে চোবান। এরপর সেটি তুলে চিপে নিয়ে শরীরের যে অংশ সমস্যা, তার উপর তোয়ালেটি রাখুন। একইভাবে আর একটি তোয়ালেও ভিজিয়ে নিয়ে চিপে প্রথম তোয়ালের উপরে রাখুন। জলটি এই সময় ঢেকে রাখুন, যাতে সেটি ঠাণ্ডা না-হয়ে যায়। এ বার একটি বড় তোয়ালে দিয়ে পুরোটা ঢেকে দিন। জলটি যেন খুব গরম না-থাকে, সেটি খেয়াল রাখবেন। তাহলে আপনার ত্বক পুড়ে যেতে পারে।


আদা কমপ্রেস করুন ৩-৫ মিনিট। এ ভাবে আরও কয়েকবার কমপ্রেস করুন। তোয়ালে পাল্টানোর সময় ত্বক যেন ঠাণ্ডা হয়ে না-যায়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এভাবে টানা ২০-৩০ মিনিট সেঁক দিন। ত্বক কিছুক্ষণের জন্য লাল হয়ে গেলেও তাতে ঘাবড়াবেন না। একদিন অন্তর এই সেঁক দিয়ে যান যতদিন না-পর্যন্ত পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হচ্ছে।

আপনার গর্ভাশয়ে সিস্ট থাকলে প্রতিদিন একবার করে আদার সেঁক দিন অন্তত ১৪ দিন।




কিডনি ক্যান্সারের লক্ষণঃ কোন লক্ষণ প্রকাশ না পাওয়ার শুরুতেই কিডনি ক্যান্সারের কথার রোগী নিজেও টের পান না। দিন দিন এর প্রবণতা বাড়ছে. তবে শুরুতে শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলেই প্রতিরোধ করা যায়।  কিডনি ক্যান্সার এক ধরনে  ম্যালিগ ন্যান্সি.


ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় কিভাবে দেখেনঃ


পালং শাকে রয়েছে ১০টিরও বেশি ভিন্ন ধরনের ফ্ল্যাভোনয়েড যা ভয়ানক রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। এই পলিনিউট্রিয়েন্টসগুলো দেহের ফ্রি র‌্যাডিকেলকে নিরপেক্ষ করে।

রক্তচাপ কমায় :

পালং শাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেসিয়াম। এটা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

চোখের সুরক্ষায় :

সাধারণত সবুজ শাক সবজিতে লুটেনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইটোকেমিক্যাল থাকে যা দৃষ্টি শক্তির ক্ষতি বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে সাহায্য করে।পালং শাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রার বিটা ক্যারোটিন যা চোখের ছানি পড়ার ঝুঁকি কমায়।

ত্বকের সুরক্ষায় :

পালং শাকে থাকা ভিটামিন এ ত্বকের বাইরের স্তরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা যেমন ব্রণ, বলিরেখা পড়া ইত্যাদির দূরীকরণেও বেশ কার্যকর।

ক্লান্তি দূর :

পালং শাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রার আয়রন যা দেহে অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এতে রয়েছে লিম্ফোবিক এসিড যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন সি ও ই কে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। এটা রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

প্রদাহ বিরোধী :

যাদের জয়েন্টে ব্যথা আছে তারা অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই শাক রাখলে উপকার পাবেন।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় :

এই শাকে থাকা ফলিক এসিড সুস্থ কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পালং শাকে বেশি মাত্রার ভিটামিন এ, লিম্ফোসাইট বা রক্তের শ্বেত কণিকা আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url