শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায়

আমরা আমাদের শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে জানতে চায়। অনেক শিশু বয়সে তুলনায় ওজন এবং উচ্চতায় দিক থেকে অনেক কম থাকে সাধারণত তাই শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায় জেনে শিশুদের ওজন এবং উচ্চতা বৃদ্ধি করানো হয়। এই আর্টিকেলে আপনার শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায় গুলো আলোচনা করা হবে।

তাহলে চলুন দেরি না করে ঝটপট শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায় জেনে নেওয়া যাক। উক্ত বিষয়টি জানতে হলে আপনাকে সম্পূর্ণ আর্টিকেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।

সূচিপত্রঃ শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায়

শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায় - শিশুর ওজন বৃদ্ধির উপায়

আমাদের শিশুরা খাবার নিয়ে সব থেকে বেশি ঝামেলা করতে থাকে। যে কোন খাবার দ্বারা সহজে খেতে চায় না। বিশেষ করে যদি শিশুর ছোট থেকে অভ্যাস না করানো হয় খাবার তাহলে সে বড় হয়ে খাবার নিয়ে বিশেষ ঝামেলা করবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা অনেকেই শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে জানতে চাই। পিতা-মাতাগণ শিশুর ওজন কম হলে অনেক দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকে। এই শিশুর ওজন বৃদ্ধির উপায় জানানো হবে।

আরো পড়ুনঃ সকালে কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

বেশ কিছু খাবার এবং কাজে রয়েছে সেগুলো করলে আপনি আপনার শিশুর ওজন বৃদ্ধি করতে পারবেন। শিশুর ওজন বৃদ্ধির উপায় গুলো জেনে খুব সহজেই আপনি আপনার শিশুকে খাওয়াতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ওজন বৃদ্ধি করতে পারবেন।

শিশুকে নিয়মিত আলু খাওয়ান - অনেক শিশুরা রয়েছে যারা আলু খেতে অনেক পছন্দ করে। এটির স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করে। আলোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং অ্যামিও অ্যাসিড। তাই শিশুর ওজন বৃদ্ধি করতে হলে অবশ্যই আলু খাওয়ান।

শিশুদের ডিম খাওয়ানোর অভ্যাস করুন - প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হলো ডিম। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন যা বাড়ন্ত শিশুদের জন্য অনেক প্রয়োজন। ডিম বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করে।

শিশুকে নিয়মিত শরীরচর্চা শেখান - যদিও ছোটবেলায় শিশুরা অনেক দুষ্টুমি করে দৌড়াদৌড়ি করে এর মধ্যেই তাদের শরীরচর্চা হয়ে যায় কিন্তু আলাদাভাবে হালকা হালকা করে শিশুকে শরীরচর্চা শেখান। ভবিষ্যতে শিশুর জন্য এটি অনেক উপকারী হবে।

যুদ্ধজাত খাবার খাওয়াবেন - শিশুর বৃদ্ধির জন্য সহযোগিতা করে দ্রুতযার খাবার যেমন পনির মাখন এবং দুধ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যাহার মজবুত করে এবং বয়স অনুযায়ী ওজন বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করে।

শাকসবজি খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন - ছোটবেলা থেকে যদি শাকসবজি খাওয়ানোর অভ্যাস না করানো হয় তাহলে বড় হয়ে তারা এসব খেতে চায় না। তাই একজন শিশুকে ছোটবেলা থেকেই শাকসবজি খাওয়ানোর অভ্যাস করুন এর মধ্যে রয়েছে শিশুর জন্য প্রয়োজন পুষ্টি উপাদান।

চরবিহীন মাংস খাওয়াবেন - মুরগির মতো চরবিহীন মানুষের প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম থাকে যা পেশি গঠনে সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়া এগুলো শিশুর ওজন বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শুকনো ফলমূল খাওয়াবেন - শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শুকনো ফলমূল খাওয়ানো। শিশুর ওজন বৃদ্ধি করতে হলে অবশ্যই শিশুকে বাদাম এবং বীজ জাতীয় শুকনো ফল খাওয়াতে হবে। যেগুলো ওজন বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করে।

বাচ্চাদের উচ্চতা বৃদ্ধির উপায়

আমরা অনেকেই আমাদের বাচ্চাদের উচ্চতা নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকি। অধিকাংশ পিতা-মাতা উপলব্ধি করে না বাচ্চাদের উচ্চতা নিয়ে। যদি কোন শিশু কম উচ্চতা নিয়ে বড় হতে থাকে তাহলে একসময় শিশুরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায়। সাধারণত তাই বাচ্চাদের উচ্চতা বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে পিতা-মাতা জানতে চায়।

সুষম খাদ্য খাওয়াতে হবে - বাচ্চার উচ্চতা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ভালো উপায় গুলোর মধ্যে হল তাকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো। যেন বাচ্চা শরীরে সঠিক পুষ্টি পৌঁছাতে পারে সেই বিষয়টি সঠিক করতে হবে। সুষম ডায়েট সঠিক অনুপাতে প্রোটিন, শর্করা, চর্বি এবং ভিটামিনের মিশ্রণ হওয়া উচিত।

নিয়মিত শরীর চর্চা করা - ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদের কিছু সাধারন শরীরচর্চা শেখানো উচিত। আপনি যদি আপনার শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধি করতে চান তাহলে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরচর্চা শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। তাই তাকে নিয়মিত শরীরচর্চা শেখাবেন।

দড়ির লাফ দেওয়াবেন - যেদিকে আমরা স্কিপিং বলি। এতে খুবই মজাদার শরীর চর্চা শিশুরা এটি করতে পছন্দ করে থাকে। এই ব্যায়াম করলে হৃদপিণ্ড সহ পুরো দেহের কাজ সঠিক থাকে এবং উচ্চতা বাড়াতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাঁতার শেখানো - সাঁতার একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং মজার শরীর চর্চা। আপনি যদি আপনার শিশুর ওজন বৃদ্ধি করতে চান এবং উচ্চতা বৃদ্ধি করতে চান তাহলে নিয়মিত তাদের সাঁতার শেখাবেন। শিশুরা সাঁতার করলে মেরুদন্ড শক্তিশালী হয় এবং উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।

হ্যাংপিং - উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য মেরুদণ্ডকে দীর্ঘায়িত করতে সহযোগিতা করে এই ব্যায়াম। যা শিশুকে লম্বা হওয়ার জন্য খুবই সাহায্য করে। আপনি আপনার বাচ্চার উচ্চতা বৃদ্ধি করতে চাইলে অবশ্যই তাকে নিয়মিত শেখান।

নিয়মিত ঘুম - শিশুর শরীর সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত ঘুম এবং ভালো ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি চান আপনার শিশু শরীর ভালো থাকে এবং উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে তাকে নিয়মিত সঠিক সময় ঘুমাতে হবে এবং সঠিক সময়ে সকালে উঠতে হবে।

শিশুর ওজন কম হলে করণীয়

শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে আমরা জেনেছি। সেই উপায় গুলো অবলম্বন করে আমরা শিশুর ওজন বৃদ্ধি করতে পারব। জন্মের সময় শিশুর ওজন যদি আড়াই কেজির কম হয় তাহলে ধরে নেওয়া হয় শিশুর এলবিডব্লিউ বা লি বার্থ ওয়েট শিশু। সে সময় অনেক পিতা-মাতা শিশুর ওজন কম হলে করণীয় সম্পর্কে জানে না।

আরো পড়ুনঃ দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম - দেওয়ানী মামলা কত প্রকার

কম ওজনের শিশুদের একটি বড় সমস্যা হলো এরা খুব সহজেই রোগা আক্রান্ত হয়ে যায়। সাধারণত তাই শিশুর ওজন কম হলে করণীয় সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই জানা উচিত। এদেরকে ভালোভাবে যত্ন নিতে হবে। জন্মের পর পরে সুযোগে সব সময় উষ্ণ রাখতে হয়। শিশুকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হয় যেন শিশুর কোন ধরনের সমস্যা না হয়।

শিশুর ওজন কম হলে জন্মের পর হাসপাতালে ভর্তি রেখে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। কেন শিশুর এই সমস্যাটি হয়েছে এ সম্পর্কে অবশ্যই সঠিক ধারণা নিতে হবে। সঠিক পোস্টটির জন্য মায়ের দুধের পাশাপাশি নাকের নল দিয়ে খাবার দিতে পারে। শিশু তাপমাত্রা কমে গেলে তাকে ইনকিউবেটরে রাখতে হবে।

শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির চার্ট - শিশুর ওজন বৃদ্ধির চার্ট

সঠিকভাবে শিশুর ওজন এবং উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির চার্ট সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় দেখা যায় শিশুর জন্মের পরে তার ওজন এবং উচ্চতা অনেক কম থাকে। সেই সময় শিশুর ওজন বৃদ্ধির চার্ট জানা থাকলে আমরা খুব সহজেই শিশুর ওজন বৃদ্ধি করতে পারব। নিচে শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির চার্ট উল্লেখ করা হলো।

প্রথমে আমাদেরকে শিশুর সঠিকভাবে উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ওজন বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা এই সম্পর্কে জানতে হবে। প্রথম সপ্তাহে ওজন কমে এবং দুই তিন সপ্তাহে ওজন স্থির থাকে এটা স্বাভাবিক। এরপরে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে থাকে। এক বছরের তিনগুণ, দুই বছরের চার গুণ এবং তিন বছরের পাঁচগুণ ওজন বৃদ্ধি পায়।

বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন আর উচ্চতা বৃদ্ধির একটি কমন প্যাটার্ন রয়েছে। গবেষকরা দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণের পর একটি চার্ট তৈরি করেছেন, যার নাম গ্রোথ চার্ট। আপনি হয়তো ইন্টারনেটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্রোথ চার্ট দেখে থাকবেন। আমাদের দেশের শিশুদের জন্য বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণিত একটি গ্রোথ চার্ট রয়েছে।

সকল সমস্যা মোকাবিলা করতে সরকারি ভাবে ওজন বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই কর্মসূচিতে বলা হয়েছে নিয়মিত শিশুর ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ করতে বয়স ০-২৪ মাস হলেঃ প্রতিমাসে ওজন ৩ মাস অন্তর উচ্চতা বয়স ২-৫ বছর হলেঃ ৩ মাস অন্তর ওজন ও উচ্চতা  এই ওজন আর উচ্চতা গ্রোথ চার্টে স্পট করার মাধ্যমে শিশুর সঠিক বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা তা অনুমান করা সম্ভব।

গ্রোথ চার্টের বক্র রেখাগুলোর পাঁচটি রং রয়েছে-

লাল অংশ - মারাত্মক অপুষ্টি

গাঢ় হলুদ অংশ - মাঝারি অপুষ্টি

হালকা হলুদ অংশ - স্বল্প অপুষ্টি

সবুজ - স্বাভাবিক

সাদা - বেশি

সাধারণত জন্মের ৩-৪ দিন শিশুদের ওজন অনেকটা কমে যায় এবং ৭-১০ দিনের মাঝে তা ফিরে আসে। প্রথম তিন মাস প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম করে দৈনিক বারে তারপরে গতি কমে যায়। ছয় মাসে গিয়ে শিশুর ওজন প্রায় দ্বিগুণ হয় আর এক বছর এগিয়ে হয় তিন গুণ। তবে কম ওজনের শিশুর ক্ষেত্রে পাঁচ মাসের আগেই ওজন দ্বিগুণ হয়ে যায়।

জন্মের পর প্রথম ছয় মাস দেখা যায় স্বাভাবিক ওজন থাকে কিন্তু অনেকেরই এরপর রেখা নিম্নগামী হয়ে যায় কারণ বুকের দুধ এখন যথেষ্ট দুধের পাশাপাশি বাড়তি যে খাবার দেওয়া দরকার তা ঠিক পরিমাণে হচ্ছে না, কিংবা হজম করতে পারছে না। আশা করি শিশুর ওজন বৃদ্ধির চার্ট সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন।

তথ্য সংগ্রহঃ matritto.com

বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির ঔষধ

অনেক পিতা-মাতা আছে যারা বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির ঔষধ খাইয়ে থাকে। কিন্তু বাচ্চার জন্য বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির ঔষধ খাওয়ানো একদম উচিত নয় কারণ এর জন্য অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যা পরবর্তীতে বাচ্চার স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই সকলের জানা উচিত যে বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির ঔষধ বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

আরো পড়ুনঃ কানের পর্দা ফেটে গেলে কিভাবে বোঝা যায়

আমরা ইতিমধ্যেই বাচ্চাদের ওজন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন জানিয়েছি অর্থাৎ শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আপনি সেই উপায়গুলো অবলম্বন করে সহজেই বাঁচার ওজন বৃদ্ধি করতে পারেন। কিন্তু বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির ঔষধ খাওয়ানোর আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। ডাক্তার যদি এই বিষয়ে খাওয়াতে বলে তাহলে সেটা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াবেন।

আমাদের শেষ কথাঃ শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায়

প্রিয় পাঠকগণ আজকের এই আর্টিকেলে শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায়, বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির ঔষধ, শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির চার্ট, শিশুর ওজন বৃদ্ধির চার্ট, শিশুর ওজন কম হলে করণীয়, বাচ্চাদের উচ্চতা বৃদ্ধির উপায়, শিশুর ওজন বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে আশা করি উত্তর বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। যদি না পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে নিন ধন্যবাদ। ২০৭৯১

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url