রেডিও থেরাপির কাজ কি - রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয়

আপনারা কি রেডিও থেরাপির কাজ কি এবং রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয় সে সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনাদের জন্য। আজকে আমরা আলোচনা করব রেডিও থেরাপির কাজ কি এবং রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয় সে সম্পর্কে। ক্যান্সার অসুখের জন্য রেডিও থেরাপি দেয়া হয়ে থাকে। রেডিও থেরাপি হচ্ছে অনেক ব্যয়বহুল চিকিৎসা।
তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেই, রেডিও থেরাপির কাজ কি এবং রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয় সে সম্পর্কে।

সূচিপত্রঃ রেডিও থেরাপির কাজ কি - রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয়

রেডিও থেরাপির কাজ কি

রেডিও থেরাপির কাজ হচ্ছে বিকিরণ রশ্মি যুক্ত চিকিৎসার সম্পূর্ণ মূল বিন্দু টি হচ্ছে দায়ী যে সকল অস্বাভাবিক কোষগুলো আছে সেগুলোর বৃদ্ধিকে আগে প্রতিহত করা। এ পদ্ধতিটি বর্তমানে ফোকাস যুক্ত আলো বাতাস তরঙ্গ ব্যবহার করার মাধ্যমে করা হয়ে থাকে যা বিজ্ঞান অনুসারে ক্যান্সার কোষ গুলোর ডিএনএকে এমনভাবে ভেঙে ফেলে যা তাদের পক্ষে পুনরায় গঠন কিংবা বৃদ্ধি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। রেডিও থেরাপির কাজ কি আশা করি তা ধারণা করা গেছে। তবে অবশ্যই এ কথা খেয়াল রাখবেন যে রেডিওথেরাপি ব্যবহারের সাথে সাথেই তা ক্যান্সার জনিত কোষ গুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করে না।

আরো পড়ুনঃ শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায়

কয়েক সপ্তাহ সময় নিয়ে পদ্ধতিটির প্রভাব শুরু হতে পারে। এর চিকিৎসা নেয়ার ফলে আপনার শরীরে যেহেতু রেডিয়েশনটা থেকে যায়, যার ফলে এটা কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্যান্সার কোষ বা সেলগুলোকে মেরে ফেলার জন্য সাহায্য করে থাকে। ক্যান্সার সেল বা কোষগুলো তে স্থায়ীভাবে প্রভাব ফেলার জন্য একাধিকবার রেডিওথেরাপি গ্রহণ করার জন্য প্রায়শই পরামর্শ দিয়ে থাকে।

রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয়

আপনার সাধারণ ক্যান্সারের ধরন, স্বাস্থ্য, অবস্থা ও আপনার চিকিৎসার লক্ষ্যের ওপরে ভিত্তি করে রেডিওথেরাপি টিম আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় রেডিয়েশন এবং ডোজ নির্ধারণ করে থাকেন। আপনার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয় নির্দিষ্ট এবং কোথায় প্রয়োগ করবে সেটা সাবধানতার সাথে পরিকল্পনা করে থাকে। রেডিয়েশন থেরাপির টিম আপনার শরীরের মধ্যে ক্ষতিকারক ক্যান্সার কোষের উপর সর্বাধিক বিকিরণ করে এবং সেটার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর এবং সুস্থ টিস্যু গুলো যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে যথেষ্ট খেয়াল রাখে।

সাধারণত একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে আপনি বহুমুখী ভিত্তিতে সপ্তাহে ৫ দিন রেডিওথেরাপি পাবেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, চিকিৎসাগুলো সাধারণত রেডিওথেরাপি সেশনের মধ্যে স্বাস্থ্যকর কোষগুলোকে পুনরুদ্ধার করার জন্য বেশ পরিচালনা করা হয় কয়েক সপ্তাহ ধরে। প্রায় ১০ মিনিট থেকে আধাঘন্টা পর্যন্ত প্রত্যেকটা চিকিৎসা পদ্ধতি সময় নিয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একক চিকিৎসা পদ্ধতি চরম অবস্থায় থাকা ক্যান্সার এবং ব্যাথার সাথে যুক্ত অন্যান্য উপসর্গগুলোকে হ্রাস করার জন্য ব্যবহার করতে পারে।

রেডিওথেরাপির জন্য প্রযুক্তি এবং পদ্ধতি

রোগীর দেহের চারপাশে বিভিন্ন দিক থেকে লিনিয়ার এক্সিলেটর মেশিনটি লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ঘুরতে থাকে। শব্দ করতে থাকে মেশিনটা। রোগীকে চিকিৎসা চলাকালীন সময় স্থির হয়ে শুয়ে থাকতে হবে এবং শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। ফুসফুস ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদেরকে মেশিনের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়ে থাকে বলে তাদেরকে শ্বাস ধরে রাখার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকে।

ডাক্তাররা রেডিও থেরাপির পরামর্শ দেন কেন

ক্যান্সারের চিকিৎসার সময় ভারতের ম্যাক্স হাসপাতালের ডাক্তাররা বিভিন্ন সময় এবং বিভিন্ন কারণে রেডিওথেরাপির বিকল্প হিসেবে সুপারিস করে থাকেন। যার মধ্যে রয়েছেন-

  • ক্যান্সারের পোস্টগুলোকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে, যেমন কেমোথেরাপির সঙ্গে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • অস্ত্রপাথরের আগে ক্যান্সার যুক্ত টিউমারগুলোকে কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।
  • সার্জারির পরে অবশিষ্ট ক্যান্সার এর কোষ গুলোর বৃদ্ধি বন্ধ করার জন্য পরামর্শ দেন।
  • ক্যান্সার জনিত লক্ষণগুলোকে দূর করার জন্য রেডিওথেরাপি ব্যবহার করতে বলেন।
  • ক্যান্সারের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে রেডিও থেরাপি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

রেডিও থেরাপির স্বল্পমেয়াদি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

রেডিও থেরাপি চলাকালীন কিংবা রেডিওথেরাপি শেষ হবার কিছুক্ষণ পরে এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলো দেখা যেতে পারে এবং কিছুদিন পর কিংবা কয়েক সপ্তাহ পর ও এগুলা সাথে থাকে। এ ধরনের স্বল্প মেয়াদি প্রতিক্রিয়া গুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • ত্বকের রং বা গঠনের পরিবর্তন
  • ডায়রিয়া
  • চুল পড়া
  • বমি বমি ভাব সহ গা গোলানোভাবে অবিরাম অনুভূতি হতে পারে
  • চরমতম ক্লান্তি
এ ধরনের পার্থ প্রতিক্রিয়া গুলো তাই কম ক্ষতিকর, সেক্ষেত্রে আপনার ধৈর্য্য ধরার অভিজ্ঞতা যদি থেকে থাকে এবং এগুলো নিজে থেকেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চলে যায়।

রেডিও থেরাপির দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

 দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো থেকে বের হয়ে আসা খুব কষ্টসাধ্য। এবং এগুলো প্রায় দীর্ঘদিন ধরে জীবিত থাকে, যদি এগুলো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলোর মধ্যে আছে-

  • মহিলাদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তন করে যা মাসিকের অনিয়ম এবং মেনোপজের সৃষ্টি করে থাকে।
  • থাইরয়েড এর সমস্যা বৃদ্ধি হয়ে থাকে।
  • হৃদপিণ্ড এবং ফুসফুসের ক্ষতি করা (রেডিয়েশন থেরাপিটি যদি বুকে কিংবা বুকের কাছাকাছি কোথাও করানো হয়ে থাকে)।
  • লিমফিডিমা -একটা অবস্থা যেখানে লিম্ফো (যখন এটা নারীর পাতলা প্রাচীর এর ভেতর দিয়ে শরীরের তন্তু গুলো যায় তখন লিম্ফ তরলটি গঠিত হয়) গঠিত হয়ে থাকে। রোগীদের চরম অসস্তি এবং ব্যথা সৃষ্টি করে থাকে।
তবে একটা সুখবর হচ্ছে, রেডিওথেরাপি যারা করান তাদের প্রত্যেককে এ ধরনের অবস্থা থেকে দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলোর অভিজ্ঞতা বহন করা হয় না। যাইহোক শরীরের কিছু কিছু অংশে রেডিয়েশনের প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলে থাকে।

শেষ কথাঃ রেডিও থেরাপির কাজ কি - রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয়

রেডিও থেরাপির কাজ কি এবং রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয় সে সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের পুরো পোষ্টটি ভালোভাবে পড়ুন, আশা করি সবকিছু ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। রেডিও থেরাপির কাজ কি এবং রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয় সে সম্পর্কে সবার আগে জানতে হলে আমাদের সাথেই থাকুন।

আজ আর নয়, রেডিও থেরাপির কাজ কি এবং রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয় সে সম্পর্কে আপনার কোন কিছু জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আশা করি আমরা আপনার উত্তরটি দিয়ে দেবো। তাহলে আমাদের আজকের এই রেডিও থেরাপির কাজ কি এবং রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয় সে সম্পর্কে পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে আপনার ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে আমাদের পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ। ২৩৭৬৬

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url