দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম - দেওয়ানী মামলা কত প্রকার

দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম আমরা অনেকেই জানিনা। আপনারা যারা দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন আপনাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলে দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

তাহলে চলুন দেরি না করে ঝটপট দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। উক্ত বিষয়টি জানতে হলে আপনাকে সম্পূর্ণ আর্টিকেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।

সূচিপত্রঃ দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম - দেওয়ানী মামলা কত প্রকার

দেওয়ানী মামলা কাকে বলে?

দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম জানার আগে আমাদেরকে দেওয়ানী মামলা কাকে বলে? এ বিষয়ে সম্পর্কে জানতে হবে। কোন বিষয়ে অধিকারের দাবি বা পূর্ব ক্ষতিপূরণের দাবি জন্য যে মামলা করা হয় তাকে দেওয়ানী মামলা বলে। পারিবারিক মামলা যেমন দেনমোহর ভরণপোষণ বিবাহ বিচ্ছেদ তালাক পারিবারিক সম্পর্কের পুনরুদ্ধার ইত্যাদি মামলা কে দেওয়ানী মামলা বলে। দেওয়ানী মামলা কাকে বলে আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় দুই ধরনের মামলা রয়েছে তার মধ্যে দেওয়ানি মামলা অন্যতম। নিজের অধিকার আদায়ের সম্পত্তির উপর দখলের জন্য যে মামলার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয় তাকে দেওয়ানি মামলা বলা হয়। দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা। দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

আরো পড়ুনঃ মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন

দেওয়ানি মামলা অনেক ধরনের হতে পারে যেমন আর্থিক ক্ষতিপূরণের মামলা, মানবিক সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ, মসজিদ, মন্দির, গির্জায় প্রার্থনা করার অধিকার, ভোটের অধিকার ইত্যাদি। এ বিষয়গুলোর ওপর একজন ব্যক্তি মামলা করতে পারে।

আর্থিক ক্ষতিপূরণের মামলা - কোন ব্যক্তি অন্য কারো দ্বারা শারীরিকভাবে বা অন্য কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি আর্থিক ক্ষতি পূরণ চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। এছাড়া মানহানি কর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করা যায়। সাধারণত এই মামলাকেই দেওয়ানি মামলা বলা হয়।

সম্পত্তি অধিকারের মামলা - নিজের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হলে তিনি সম্পত্তি অধিকার ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। এই মামলা যদি সত্যি প্রমাণিত হয় তাহলে সে তার সম্পত্তি ফিরিয়ে পাবে।

ভরণপোষণের অধিকার আদায়ের মামলা - মা-বাবা বৃদ্ধ হলে অনেক ছেলেপেলে আছে তাদের ভরণপোষণ দেয় না। সে সকল মা বাবা আদালতে ভরণপোষণ চেয়ে মামলা দায়ের করতে পারে। এছাড়া স্ত্রীর ভরণপোষণ না দিলে স্ত্রী তার স্বামীর উপর ভরণ পোষণ চেয়ে মামলা করে দিতে পারেন।

দেওয়ানী মামলা গুলো ধরন বোঝে বিভিন্ন আদালতে দায়ের করতে পারেন। যে মামলা যে আদালতে করার নিয়ম আছে সে মামলা সেই আদালতে কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে মামলাটি করা যায়। জমিজমা সম্পর্কিত মামলা গুলো সাধারণত জেলা জজ আদালতে সহকারী জজ আদালত দায়ের করতে হয়।

দেওয়ানী মামলা কত প্রকার

আমরা অনেকেই দেওয়ানী মামলা কত প্রকার? এ বিষয়টি জানিনা। যেহেতু নিজের অধিকার আদায়ের জন্য দেওয়ানি মামলা করা হয় সেজন্য আমাদেরকে অবশ্যই দেওয়ালে মামলা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখতে হবে। দেওয়ানী মামলা কত প্রকার? বিষয়টির নিচে উল্লেখ করা হলো। দেওয়ানি আদালত আইন ১৮৮৭ এর ধারা ৩ অনুযায়ী বাংলাদেশে ৫ প্রকারের দেওয়ানি আদালত আছে সেগুলো হলঃ

  1. জেলা জজ আদালত
  2. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত
  3. যুগ্ন জেলা জজ আদালত
  4. সিনিয়র সহকারি জজ আদালত
  5. সহকারী জজ আদালত

দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ার কে আবার পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলো হলঃ

  1. বিষয়বস্তুগত এখতিয়ার
  2. আঞ্চলিক এখতিয়ার
  3. আর্থিক এখতিয়ার
  4. আদি বা মুল খতিয়ার
  5. আপিল এখতিয়ার

দেওয়ানী মামলার ধারা সমূহ

দেওয়ানি মামলা করার আগে আমাদের অবশ্যই দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম জানতে হবে। এর সাথে সাথে দেওয়ানী মামলার ধারা সমূহ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখতে হবে। কোন বিষয়ে অধিকারের দাবিতে যে মামলা করা হয় সাধারণত তাকেই দেওয়ানি মামলা বলা হয়। দেওয়ানী মামলার ধারা সমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো।

আরো পড়ুনঃ শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির উপায়

১। মামলা দায়ের

২। সমন ফেরত

৩। জবাব দাখিল

৪। আপস মীমাংসা বিচার্য বিষয় গঠন

৫। শুনানির তারিখ নির্ধারণ প্রাথমিক শুনানি

৬। যুক্তি তর্ক

৭। রাইটিং

দেওয়ানী মামলা খারিজ

আমরা সাধারণত নিজের অধিকার আদায়ের জন্যই দেওয়ানী মামলা করে থাকি। অনেকেই দেওয়ানী মামলা খারিজ সম্পর্কে জানতে চাই। দেওয়ানী মামলা খারিজ কখন হবে অবশ্যই এ বিষয়ে জেনে নেওয়া উচিত। দেওয়ানী মামলার কোন পক্ষ মামলার কার্যক্রমে হাজির না হলে কি হবে এ বিষয়ে দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ নম্বর আদেশে বলা হয়েছে।

এখানে বলা হয়েছে মামলার শুনানির জন্য ডাক পড়লে কোন পক্ষ যদি হাজির না হয় তবে মামলা খারিজ হয়ে যাবে। তবে কোনো পক্ষেই হাজির না হওয়ায় দেওয়ানী মামলা খারিজ হলে দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ নম্বর আদেশের চার নম্বর নিয়ম অনুযায়ী আবেদন দাখিল করে মামলা পূর্ণ জীবিত করার প্রার্থনা করা যাবে।

দেওয়ানী মামলা প্রত্যাহারের নিয়ম

দেওয়ানী মামলা প্রত্যাহারের নিয়ম জানা আমাদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক যেমন আমরা দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম সম্পর্কে জেনেছি। দেওয়ানী মামলা প্রত্যাহারের নিয়ম দেওয়ানি কার্যবিধির ২৩ আদেশের ১ নিয়ম অনুসারে, দেওয়ানি মামলা হওয়ার পর যে কোনো সময়ে বাদী সব বা যে কোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করতে বা আংশিক দাবি পরিত্যাগ করতে পারেন।

যে ক্ষেত্রে আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, কোনো পদ্ধতিগত ত্রুটির জন্য মোকদ্দমাটি ব্যর্থ হতে বাধ্য এবং মামলার বিষয়বস্তুর জন্য কিংবা কোনো দাবির অংশের জন্য নতুনভাবে মোকদ্দমা করার জন্য বাদীকে অনুমতি দেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

সে ক্ষেত্রে আদালত উপযুক্ত শর্তে বাদীকে তার মোকদ্দমা প্রত্যাহার করে অথবা তার আংশিক দাবি পরিত্যাগ করার অনুমতি দিতে পারবেন এবং ওই মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বা ওইরকম আংশিক দাবি সম্পর্কে পুনরায় মোকদ্দমা করার অনুমতি মঞ্জুর করতে পারেন।

আদালতের উল্লিখিত অনুমতি ছাড়া যে ক্ষেত্রে বাদী মোকদ্দমা প্রত্যাহার করেন বা আংশিক দাবি পরিত্যাগ করেন সে ক্ষেত্রে বাদী আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে মোকদ্দমার খরচার জন্য দায়ী হবেন এবং ওই বিষয়বস্তু বা আংশিক দাবি সম্পর্কে নতুনভাবে কোনো মোকদ্দমা দায়ের করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।

দেওয়ানী মামলার রায়

দেওয়ানী মামলার রায় কি হতে পারে এ সম্পর্কে অনেকের আগ্রহ থাকে। দেওয়ানী মামলা করা হয় সাধারণত আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য। তাই আমাদেরকে এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানতে হবে। দেওয়ানী মামলার রায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

আরো পড়ুনঃ ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায়

চুড়ান্ত শুনানির তারিখ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে মামলার শুনানি শেষ করতে হয়। চুড়ান্ত শুনানি ও পরবতী চুড়ান্ত শুনানি পযাের্য় বিচারক জবানবন্দি জেরা, দলিলাদি গ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক শুনেন। মামলার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পরে অনধিক ৭ দিনের মধ্যে আদালত রায় ঘোষণা করবেন।

আমাদের শেষ কথাঃ দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম - দেওয়ানী মামলা কত প্রকার

প্রিয় পাঠকগণ আজকের এই আর্টিকেলে দেওয়ানী মামলার রায়, দেওয়ানী মামলা প্রত্যাহারের নিয়ম, দেওয়ানী মামলা খারিজ, দেওয়ানী মামলার ধারা সমূহ, দেওয়ানী মামলা কত প্রকার? দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম, দেওয়ানী মামলা কাকে বলে? এ বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আপনারা উক্ত বিষয় গুলো জানতে পেরেছেন।

আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে আশা করি উক্ত বিষয়গুলো জানতে পেরেছেন। যদি না পড়ে থাকেন তাহলে উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত করে নিন।২০৭৯১

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url