মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন

মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে হলে এই আর্টিকেলটি মনোযোগের সহিত আপনাকে পড়তে হবে। মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন, সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর এই আর্টিকেলটিতে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। তো আসুন দেখে নেয়া যাক, মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

পেজ সূচিপত্র: মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন

ভূমিকা

প্রতিবছর মহান শিক্ষা দিবস পালন করা হয়। মহান শিক্ষা দিবস পালন করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা রয়েছে। যেই ঘটনার কারণে প্রতিবছর যথাযথ মর্যাদার সহিত বাংলাদেশে মহান শিক্ষা দিবস পালন করা হয়। মহান শিক্ষা দিবস সম্পর্কে আপনি যদি বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যবহুল এই আর্টিকেলটিতে মহান শিক্ষা দিবস সম্পর্কে গুরুত্ব বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। 

আপনি যদি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগের সহিত পুরো আর্টিকেলটি পড়েন তাহলে আশা করি মহান শিক্ষা দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। তো কথা না বাড়িয়ে চলুন দেখে নেয়া যাক, মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন, মহান   শিক্ষা দিবসে শহীদ শ্রমিকের নাম কি এবং মহান শিক্ষা দিবস কত তারিখে পালিত হয় সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। 

মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন

মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন? সে সম্পর্কে জানার পূর্বে, মহান শিক্ষা দিবসের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা উচিত। কেননা আপনি যদি মহান শিক্ষা দিবসের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে না জানেন তাহলে কি কারনে মহান শিক্ষা দিবসে শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন, তা অনুধাবন করতে পারবেন না। 

তাই শিক্ষা দিবসের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা জরুরী। প্রথমে শিক্ষা দিবসের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করা হবে এরপরে মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন? সেই প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরা হবে। তো আসুন দেখে নেয়া যাক, মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন? এবং মহান শিক্ষা দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত। 

আর্টিকেলটির এই অংশে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা দিবসের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাই শিক্ষা দিবসের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে সাথেই থাকুন। মহান শিক্ষা দিবসের প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে, ১৯৫৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের সরকার আইয়ুব খান শিক্ষা নীতি সংস্কার করার জন্য "শরীফ কমিশন" নামের একটি কমিশন গঠন করেন। সেই কমিশন কে দায়িত্ব দেয়া হয় শিক্ষা সংক্রান্ত সংস্কার করার জন্য। 

"শরিফ কমিশন" সেই দায়িত্ব পেয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে এমন কিছু সংস্কারের প্রস্তাব করে, যা শিক্ষার্থী অভিভাবক এমনকি জনসাধারণ মেনে নিতে পারেনি। কেননা শরিফ কমিশন শিক্ষা নীতিকে সংকুচিত করে ফেলে। এর ফলে জনসাধারণের জন্য, শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো ফলাফল করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে ধনিকশ্রেণীর জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়। 

শরিফ কমিশনের প্রস্তাবনা অনুসারে, পাশের শতকরা নাম্বার বৃদ্ধি করে পাশ নম্বর ধরা হয় শতকরা ৫০, দ্বিতীয় বিভাগের জন্য পাশ নম্বর নির্ধারণ করা হয় শতকরা ৬০ এবং প্রথম বিভাগের জন্য পাশ নাম্বার বৃদ্ধি করে শতকরা ৭০ শতাংশকরা হয়। যা ছিল সাধারণ শিক্ষানীতির পুরোপুরি বিরুদ্ধে। কেননা স্বাভাবিক নিয়মে শতকরা পাশ নম্বর থাকবে ৩৩ শতাংশ। 

উপরে উল্লেখিত নীতি প্রণয়ন করে তারা শিক্ষা ক্ষেত্রেকে খুবই সংকীর্ণ করে ফেলে। যার দরুন শিক্ষা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। পক্ষান্তরে ধনিকশ্রেণীর জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে শরিফ কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিলে আইয়ুব সরকার সেই শিক্ষা নীতি ১৯৬২ সালে বাস্তবায়ন করেন।
শরিফ কমিশন প্রণীত, এই শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন করার সাথে সাথেই শিক্ষার্থী অভিভাবক সহ সব ধরনের মানুষ এর প্রতিবাদ করতে শুরু করে। কেননা সকলের কাছেই এটা স্পষ্ট ছিল যে, শরীফ কমিশন যে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে তা দেশ ও জাতির জন্য আত্মঘাতী এবং খুবই ক্ষতিকারক। এই শিক্ষা কমিশন বাস্তবায়ন করলে জাতি শিক্ষিত হতে পারবে না। 

তাই দল মত নির্বিশেষে সকলেই শরিফ কমিশনের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন। তবে এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল ছাত্র সংগঠনগুলো। আর তাই,  "ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ" শরিফ কমিশন প্রণীত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন। এরাই ধারাবাহিকতায় একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।

তাদের আহবানে সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জনগণ আসতে শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত জনতা মিছিল নিয়ে বের হলে, খবর ছড়িয়ে যায় যে জগন্নাথ কলেজে মিছিলত জনগণের উপরে পুলিশ ছুড়েছে। সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরে সকলেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য, পুলিশ বাহিনী মিছিলত লোকদের উপরে লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের আঘাতে ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুল অনেকেই শহীদ হয়। ১৭ই সেপ্টেম্বরের সেই শহীদদেরকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যেই প্রতিবছর মহান শিক্ষা দিবস পালন করা হয়। কুখ্যাত শরীফ কমিশনের প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনজন নিহত হয়েছিলেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের সংখ্যা এক জন বলা হয়েছে। 

মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন, আশা করি সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে পেরেছেন। নিচে মহান   শিক্ষা দিবসে শহীদ শ্রমিকের নাম কি এবং মহান শিক্ষা দিবস কত তারিখে পালিত হয় সে বিষয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাই মহান শিক্ষা দিবস সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন। মহান   শিক্ষা দিবসে শহীদ শ্রমিকের নাম কি? তা নিচে তুলে ধরা হলো। 

মহান   শিক্ষা দিবসে শহীদ শ্রমিকের নাম কি

মহান   শিক্ষা দিবসে শহীদ শ্রমিকের নাম কি? সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নিচে তুলে ধরা হবে। তো আসুন দেখে নেয়া যাক, মহান   শিক্ষা দিবসে শহীদ শ্রমিকের নাম কি? উপরে বলা হয়েছে যে, কুখ্যাত শরীফ কমিশন শিক্ষা নীতির প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে একজন শ্রমিক নিহত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে যেই শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছিলেন তার নাম কি? শরীফ কমিশনের প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে যেই শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছিলেন তার নাম হল সুন্দর আলী।
মহান   শিক্ষা দিবসে শহীদ শ্রমিকের নাম কি? আশা করি সেই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। ইতোমধ্যেই উপরে মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন? সেই বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। মহান শিক্ষা দিবস কত তারিখে পালিত হয়? সেই বিষয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হবে। 

মহান শিক্ষা দিবস কত তারিখে পালিত হয়

প্রতিবছর যথাযথ মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার সহিত শিক্ষা দিবস পালন করা হয়। এখন কথা হলো মহান শিক্ষা দিবস কত তারিখে পালিত হয়। মহান শিক্ষা দিবস কত তারিখে পালিত হয়, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নিচে তুলে ধরা হবে। মহান শিক্ষা দিবস কত তারিখে পালিত হয়? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো: ১৭ সেপ্টেম্বর। 
মহান শিক্ষা দিবস কত তারিখে পালিত হয়, আশা করি সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে পেরেছেন। ইতোমধ্যেই উপরে, মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন এবং মহান   শিক্ষা দিবসে শহীদ শ্রমিকের নাম কি? সে বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

শেষ কথা

আপনি যদি প্রথম থেকে এই আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন যে, মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন, মহান  শিক্ষা দিবসে শহীদ শ্রমিকের নাম কি এবং মহান শিক্ষা দিবস কত তারিখে পালিত হয়? কেননা এই আর্টিকেলটিতে শিক্ষা দিবসের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে আশা করি তথ্যবহুল এই আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগেছে। যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে সকলের সাথে শেয়ার করবেন। ১৬৪১৩

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url