নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি

আপনারা কি নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি বা মৃত্যুর পর নামাজ না পড়ার শাস্তি ও নামাজ না পড়ার শাস্তি pdf সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনাদের জন্য। নামাজ না পড়লে পরকালে কঠিন শাস্তি পেতে হয়। আজকে আমরা আলোচনা করব নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি, এক ওয়াক্ত নামাজ না পড়ার শাস্তি বা নামাজ না পড়ার শাস্তি কত বছর সে সম্পর্কে।
তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেই, ইচ্ছাকৃত নামাজ না পড়ার শাস্তি কি এবং নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি সম্পর্কে।

সূচিপত্রঃ নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি

নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি| ইচ্ছাকৃত নামাজ না পড়ার শাস্তি কি

যে ব্যক্তি নামাজ পড়ে না আল্লাহ পাক তার জন্য ১৫ টি আযাব নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। তার মধ্যে দুনিয়ায় হবে ছয়টি, মৃত্যুর সময় হবে তিনটি, কবরের মধ্যে হবে তিনটা এবং হাশরের মধ্যে হবে বাকি তিনটা। এখন আমরা সেই নামাজ না পড়ার পর ১৫ টি শাস্তি সম্পর্কে জানব। তাহলে চলুন, দেখে আসি নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি কি কি।

যে ছয়টি আযাব দুনিয়াতে দেওয়া হবে তার নিম্নরূপ-

  • ইসলামের মূল্যবান নেয়ামত সমূহ থেকে বঞ্চিত করা হবে।
  • আল্লাহ পাকের সমস্ত ফেরেশতা তার উপর অসন্তুষ্ট থাকিবে।
  • তার দোয়া আল্লাহ তায়ালার নিকট কবুল হবে না।
  • সে যা কিছু অনেক কাজ করবে তার সওয়াব পাবে না।
  • আল্লাহ তা চেহারা থেকে নেক লোকের চিহ্ন উঠিয়ে নিবে।
  • তার জীবনে কোন রকম বরকত পাবে না।

আরো পড়ুনঃ ইসলামের প্রথম মসজিদ কোনটি

যে তিনটি আজাব মৃত্যুর সময় দেওয়া হবে তার নিম্নরূপ-

  • মৃত্যুকালে তার এত পিপাসা পাবে যে, দুনিয়ার সব পানি পান করার ইচ্ছা হবে তার।
  • ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে।
  • অত্যন্ত দুর্দশা হয়ে মৃত্যুবরণ করবে।

যে তিনটি আযাব কবরের মধ্যে দেয়া হবে তা নিম্নরূপ-

  • তার কবর এমন সংকীর্ণ হবে যে তার এক পাশের হাড় অপর পাশের হাড়ের সাথে মিশে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।
  • তার কবরে দিনরাত সবসময় আগুন জ্বালিয়ে রাখা হবে।
  • তার কবরে আল্লাহ তা'আলা একজন আযাবের ফেরেশতা নিযুক্ত করবে। তার হাতে থাকবে লোহার মুগুর। দুনিয়ায় কেন নামাজ পড়েনি তা মৃত ব্যক্তিকে সে বলতে থাকবে। আজ তার ফল ভোগ কর। এই বলে সে ফজর নামাজ না পড়ার জন্য ফজর থেকে জোহর পর্যন্ত, জোহরের নামাজের জন্য জোহর থেকে আসর পর্যন্ত, আসর নামাজ না পড়ার জন্য আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত, মাগরিব এর নামাজ না পড়ার জন্য মাগরিব থেকে এশার পর্যন্ত এবং এশার নামাজ না পড়ার জন্য এশার থেকে ফজর পর্যন্ত আঘাত করতেই থাকবে।

আর বাকি এই তিনটা রোজ হাশরের দিন কিয়ামতের ময়দানে দেওয়া হবে। তাই আমাদের মধ্যে যত মুসলিম ভাই আছেন আসুন আমরা সকলে নিয়মিত ও সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। এবং নামাজ না পড়ার শাস্তি থেকে মুক্তি লাভ করি।

মৃত্যুর পর নামাজ না পড়ার শাস্তি কত বছর

নামাজ না পড়লে মৃত্যুর পর জাহান্নামে যাবার কারণ হয়ে থাকে। পবিত্র কুরআনে এসেছে, তোমাদের (জাহান্নামিদের কে জিজ্ঞেস করা হবে) জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে কোন জিনিস? তারা তখন বলবে, আমরা নামাজ আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত না। (সূরা মুদ্দাসসিরঃ ৪২-৪৩)। অর্থাৎ মৃত্যুর পর নামাজ না পড়ার শাস্তি কত বছর হচ্ছে জাহান্নাম। পবিত্র কুরআনের ঘোষণা অনুসারে, বেনামাজি কে কেয়ামতের দিন জাহান্নামের গভীর গর্তে নিক্ষেপ করা হবে।

ইব্রাহিম, নুহু এবং ইসরাইল আলাইহি ওসাল্লাম এর ব্যাপারে বর্ণনা করার পর মহান আল্লাহ পাক বলেছেন, তাদের পরে পরবর্তী রা আসলো অপদার্থ, এরা নামাজ নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করিল। সুতরাং অচিরেই তারা গাইয়া প্রত্যক্ষ করবে। (সুরা মরিয়মঃ ৫৯)। জাহান্নামের একটা নদীর তলদেশ হচ্ছে গাইয়া। যার অনেক গভীরতা, যেখানে রয়েছে পুঁজ ও রক্তের নিকৃষ্টতম আস্বাদ। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)। জাহান্নামের একটা উপত্যকার নাম হচ্ছে গাইয়া। (তাফসীরে কাশশাফ ও নাসাফি)।

মৃত্যুর পর নামাজ না পড়ার শাস্তি কত বছর হবে কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম লাঞ্ছনা ও অপদস্থতার শিকার হবে। তার বিবরণ কোরআনের একটা আয়াতে এসেছে যে, সেদিনের কথা স্মরণ করো, পায়ের গোছা যেদিন উন্মোচন করা হবে। সেজদা করার জন্য সেদিন তাদের আহবান করা হবে। তাদের হীনতা, দৃষ্টি অবনত তাদের আচ্ছন্ন করতে থাকবে। অথচ তারা যখন নিরাপদ ছিল, তখন তো তাদের সিজদা করতে আহ্বান করা হয়েছিল। (সূরা কালামঃ ৪২-৪৩)।

নামাজ না পড়ার শাস্তি pdf

এখন আমরা নামাজ না পড়ার শাস্তি pdf নিয়ে আলোচনা করব। নামাজ না পড়ার শাস্তি সম্পর্কে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। নামাজ না পড়লে কি কি শাস্তি হতে পারে তা আমরা আলোচনা করেছি। বেনামাজীর নূর ও নাজাতের দলিল কিয়ামতের দিন থাকবে না। রাসূল সাঃ আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর বর্ণিত হাদিসে বলেছেন, নামাজের হেফাজত যে ব্যক্তি করবে না, কিয়ামতের দিন নামাজ তার জন্য আলো বা নূর হবে না। এমনকি নাজাতের দলিল হবেন না।

আরো পড়ুনঃ সকালে কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

বেনামাজির হাশর বড় বড় কাফেরদের সাথে হবে। রাসূল সাঃ বলেছেন, বেনামাজি ব্যাক্তি কেয়ামতের দিন হামান, ফেরাউন, কারুন ও উবাই ইবনে খালফের সাথে থাকতে হবে। জাহান্নামে যাবে বেনামাজিরা। যখন আল্লাহর নেক বান্দারা জান্নাতে যাবে, তখন তারা জাহান্নামীদের সম্পর্কে কথাবার্তা বলবে। অপরাধীদেরকে জান্নাতীরা জিজ্ঞাসা করবে যে, এ ভয়ানক জাহান্নামে কোন জিনিস তোমাদেরকে পৌঁছেছে? জাহান্নামিরা তখন উত্তরে বলবে, দুনিয়াতে আমরা নামাজীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। তাই আমাদের এ ধরনের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য নামাজ আদায় করতে হবে। নামাজ না পড়ার শাস্তি কি ধরনের তার একটা বই অনুসরণ করতে হবে। এগুলো বিষয়ে জানতে হবে। ইন্টারনেটে pdf ফাইল ডাউনলোড করে ও এই বই পড়তে পারেন।

এক ওয়াক্ত নামাজ না পড়ার শাস্তি

নবী সাঃ বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি একা ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেয় আর ইতিমধ্যে ওই নামাজের ওয়াক্ত পার হয়ে গিয়ে থাকে এবং নামাজ আদায় করে নেয়, তারপরও এক হুকবা জাহান্নামের শাস্তি তাকে দেওয়া হবে। এক হুকবা হচ্ছে ৮০ বছর। আর ৩৬০ দিন প্রত্যেক বছর। আর প্রতিটা দিন হচ্ছে ১০০০ বছরের সমান। তোমরা যেভাবে গণনা করো। উল্লেখ্য, উক্ত হিসাব অনুসারে সর্বমোট দুই কোটি ৮৮ লক্ষ বছর হয়ে থাকে। এই বর্ণনাটি একদম বানোয়াট ও মিথ্যা। উক্ত বক্তব্যটা হচ্ছে তাবলীগ জামাতের অনুসরণীয় গ্রন্থ ফাজাইলের আমল।

এই আমলের ফাজায়েলে উল্লেখ করা হয়েছে নামাজ অংশে। কিন্তু কোন প্রমাণ সেখানে পেশ করা হয়নি। বরং এভাবেই বলা হয়েছে 'মাজালিসুল আবরারে' উল্লেখ করা হয়। তবে হাদিসের মধ্যে আমার কাছে যে সমস্ত গ্রন্থ রয়েছে তার মধ্যে আমি এটা পাইনি। এটা যেহেতু লেখক নিজেই স্বীকার করেছে, সেহেতু আর কোন মন্তব্যের দরকার নাই। তবে দুঃখজনক হচ্ছে, স্পষ্ট হবার পর রাসূল সাঃ এর নামে কেন তা বর্ণনা করতে হবে? তার নামে এটা নিঃসন্দেহে মিথ্যাচারের শামিল।

আরো পড়ুনঃ মশাবাহিত রোগ থেকে বাচার উপায়

সহি হাদিসের দৃষ্টিকোণ থেকেও সঠিক নয় কথাটা। কেননা রাসূল সাঃ বলেছেন, ভুল বা ঘুমের কারণে নামাজ ছুটে যায় যে ব্যক্তির, তার কাফফারা হচ্ছে যখন তার স্মরণে হবে তখনই সে যেন নামাজ পড়ে নেই। এছাড়া রাসুল সাঃ এবং সাহাবায়ে কেরাম সূর্য ডোবার পর খন্দকের যুদ্ধের দিন আসরের নামাজ আদায় করেন। তারপর মাগরিবের নামাজ আদায় করেছিলেন। তাছাড়া একদিন ফজরের নামাজ ও সূর্যের তাপ বাড়ার পরে তারা পড়েছিলেন। সে ক্ষেত্রে তাদের শাস্তি কত বছর হতে পারে? (নাউজুবিল্লাহ)।

শেষ কথাঃ নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি

নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি মৃত্যুর পরে নামাজ না পড়ার জন্য শাস্তি স্বরূপ কি হতে পারে এগুলো সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের পুরো পোষ্টটি ভালোভাবে পড়ুন, আশা করি সবকিছু ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি সম্পর্কে যদি সবার আগে জানতে চান আমাদের সাথেই থাকুন।

আজ আর নয়, নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি সম্পর্কে যদি আপনার কোন কিছু জানার থাকে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আশা করি আমরা আপনার উত্তরটি দিয়ে দেবো। তাহলে আমাদের আজকের এই নামাজ না পড়ার ১৫ টি শাস্তি সম্পর্কে পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে আপনার ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে আমাদের পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ। ২৩৭৬৬

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url