ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায়

ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব। আমরা অনেকেই ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায় জানিনা কিন্তু একটু বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই সাহায্যকারী। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আজকের এই আর্টিকেলে ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

তাহলে চলুন দেরি না করে ঝটপট ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায় গুলো জেনে নেওয়া যাক। উক্ত বিষয়টি জানতে হলে আপনাকে সম্পূর্ণ আর্টিকেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।

সূচিপত্রঃ ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায়

ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায়

ইউরিক এসিড একটি রাসায়নিক যৌগ এবং একটি প্রাকৃতিক বর্জ্য পণ্য যা পি ইউরিন সমৃদ্ধ খাবার হজমের পরে শরীর থেকে নির্গত হয়। শরীরে ইউরিক এসিড এর মাত্রা বেড়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণের রাখা অত্যন্ত জরুরী। ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায় নিচে উল্লেখ করা হলো।

আরো পড়ুনঃ মহাস্থানগড় কোথায় অবস্থিত - মহাস্থানগড় কোন নদীর তীরে অবস্থিত

ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায়ঃ

পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া কমাতে হবে - পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ। পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন বিভিন্ন ধরনের মাংস, সামুদ্রিক খাবার এবং সবজি যেগুলো হজম হওয়ার সাথে সাথে ইউরিক এসিড তৈরি করে। অতিরিক্ত মাত্রায় যদি ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায় তাহলে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা সৃষ্টি হয়। ব্যথা কমানোর জন্য আপনাকে পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া কমাতে হবে।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে - আমরা যদি প্রচুর পরিমাণে পানি পান করি তাহলে আমাদের শরীর হাইড্রেট থাকবে এবং কিডনি থেকে ইউরিক এসিড পরিষ্কার হবে এবং শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যাবে। তাই প্রতিদিন আমাদের শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখতে হবে - আমাদের শরীরে ফ্যাট সেল বেশি মাত্রায় ইউরিক অ্যাসিড প্রস্তুত করে। অতিরিক্ত ওজন শরীর থেকে ইউরিক এসিড বের করতে কিডনিকে বাধা দিতে পারে তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা আমাদের জন্য জরুরী। ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আমাদের স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখতে হবে।

মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে হবে - অতিরিক্ত পরিমাণে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ ইউরিক এসিডের ব্যথা অত্যন্ত পরিমাণে বাড়িয়ে দেয়। তাই মানসিক চাপমুক্ত স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন সহ যথাযথ খাদ্য অভ্যাস, দৈনন্দিন ব্যায়াম পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণ করতে সহযোগিতা করে।

চিনি যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে - শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হলো চিনি। এটি পিউরিন মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে, ফলে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই আমাদেরকে চিনি যুক্ত খাবার থেকে এড়িয়ে চলতে হবে।

ইনসুলিনের লেভেল নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে - শরীরে যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ইন্সুলেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় তাহলে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে যাবে। ইন্সুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরী।

ইউরিক এসিডে নিষিদ্ধ খাবার

ইউরিক অ্যাসিড যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে আমাদের বেশ কিছু খাবার খাওয়া যাবে না। যদি এ সকল খাবারগুলো খাওয়া হয় তাহলে ইউরিক এসিডের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। সেজন্য এই সমস্যা যাদের রয়েছে তাদের ইউরিক এসিডে নিষিদ্ধ খাবার সম্পর্কে জানতে হবে। ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে নিজের খাদ্য তালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায় এর মধ্যে অন্যতম হলো আমাদেরকে ইউরিক এসিডে নিষিদ্ধ খাবার গুলো এড়িয়ে চলতে হবে। দেশী ছোলা, রাজমা, কাবুলি ছোলা মটর খাওয়া উচিত নয়। যাদের ইউরিক এসিড বৃদ্ধি পায় সাধারণত তাদের ব্রকোলি, মাশরুম, মিষ্টি ফল, পেস্ট্রি, বার্গার এ ধরনের খাবার খাওয়া উচিত নয়।

কৃত্রিম রং, চিনি বা কর্ন সিরাপ দেওয়া খাবার খাওয়া যাবেনা। রং দেওয়া জেলি, জ্যাম, সিরাপ, ফ্রুটো জুস খাওয়া চলবে না। আমরা জানি যে মাছ মাংস প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। আমিষ খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায় তাই মাছ মাংস ও খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিন কিডনিতে বিপরীত প্রভাব বিস্তার করে।

ইউরিক এসিডের ডায়েট চার্ট

ইউরিক এসিডের ডায়েট চার্ট জানা ইউরিক অ্যাসিড কমানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইউরিক এসিড কমানোর জন্য ইউরিক এসিডের ডায়েট চার্ট নিচে উল্লেখ করা হলো। ইউরিক এসিডের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এই সকল খাবার খাওয়া উচিত।

১। বেশি করে জল পান করুন। এটি শরীরে উপস্থিত বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে।

২। তাজা এবং মরসুমি ফল খান। বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে জয়েন্টের প্রদাহ কমাতে কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন।

৩। ভিটামিন B-12 এর মাত্রা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন দুধ, দই এবং মাখন খান ও বাদাম খান।

৪। ডাল এবং অঙ্কুরিত শস্য খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ভালো হয় যদি আপনি সেগুলো ভিজিয়ে রান্না করেন।

আরো পড়ুনঃ মহান শিক্ষা দিবসে কতজন শহীদ হন

৫। চিংড়ি’র মালাইকারি কিংবা চিংড়িভুনা কার না প্রিয়! তবে ব্যথায় কষ্ট পাওয়ার চাইতে এগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৬। আজকাল বাজারে টুনা, স্যামন, সার্ডিন ইত্যাদি নানান ধরনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। ইউরিক এসিডের রোগীদের জন্য এ মাছগুলো নয়।

৭। মুসুরডাল, ছোলারডাল, চানাডাল ও কিডনি বিন ছাড়া অন্য কোনো ডাল খাওয়া যেতে পারে।

ইউরিক এসিডের ব্যায়াম

আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে ব্যায়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক তেমন ইউরিক এসিডের ব্যায়াম রয়েছে। আপনার যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ইউরিক এসিড বৃদ্ধি পায় তাহলে আপনি ইউরিক এসিডের ব্যায়াম করে খুব সহজেই এ ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন। সাধারণত এটিকে ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া এসিড কমানোর ঔষধ খেলেও এ ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

অ্যারোবিক ব্যায়াম - হাঁটা, জগিং, সাইকেল চালানো কিংবা নাচ ভালো ব্যায়াম হতে পারে। প্রথম দিকে ১০ মিনিট করে এসব ব্যায়াম করলেই চলবে। এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত করতে হবে সপ্তাহে পাঁচ দিন। পাশাপাশি সঠিক ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।

সাঁতার - যতগুলো ব্যায়াম রয়েছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী ব্যায়াম হচ্ছে সাঁতার। সপ্তাহে দুই দিন ১৫ মিনিট করে সাঁতার কাটতে হবে। ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে তা ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত করা যাবে।

স্ট্রেচিং - ইউরিক এসিড কমানোর জন্য এই ব্যায়ামটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য প্রথমে হাতের কবজি মুষ্টিবদ্ধ করে চারদিক ঘোরাতে হবে। ঘড়ির কাঁটার দিকে ও উল্টো দিকে ৩০ সেকেন্ড করে ঘোরান। এভাবে ১০ বার ব্যায়ামটি করুন। এরপর একইভাবে কাঁধের সন্ধি এবং অন্যান্য অস্থিসন্ধিতে একইভাবে ঘোরানোর বা নড়াচড়ার চেষ্টা করুন। প্রতিটি অস্থিসন্ধিতে ৩০ সেকেন্ড করে ১০ বার ব্যায়ামটি করুন।

পায়ের পাতা ধরা - বসে পা দুটি সোজা করে হাত দিয়ে পায়ের পাতা ধরার চেষ্টা করুন। ৩০ সেকেন্ড ধরে রেখে আবার সোজা হয়ে বসুন। এভাবে ১০ বার করুন। এই ব্যায়াম যদি আপনার নিয়মিত করতে পারেন তাহলে ইউরিক এসিডের ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর ঔষধ - এসিড কমানোর ঔষধ - ইউরিক এসিড কমানোর এলোপ্যাথিক ঔষধ

আমাদের মধ্যে অনেক মানুষ রয়েছে যারা অল্পতেই ওষুধ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ইউরিক অ্যাসিড একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এই সমস্যায় অবহেলা করা যাবে না। তাই খুব তাড়াতাড়ি ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর ঔষধ খেতে হবে। সেজন্য এসিড কমানোর ঔষধ সম্পর্কে জানা খুবই জরুরী। কোন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ইউরিক এসিড কমানোর এলোপ্যাথিক ঔষধ খেতে হবে।

ইউরিক এসিড কমানোর এলোপ্যাথিক ঔষধ হল ফেবুট্যাক্স ৮০ এম জি ট্যাবলেট {Febutax 80 MG Tablet} গাউটি আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে বাতের লক্ষণগুলি হ্রাস করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি জ্যান্থিন অক্সিডেস ইনহিবিটর নামে পরিচিত একটি ওষুধ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। এই ওষুধটি জ্যান্থিন অক্সিডেস এনজাইমকে ব্লক করে ইউরিক অ্যাসিডের স্তরকে হ্রাস করে কাজ করে।

আরো পড়ুনঃ রেডিও থেরাপির কাজ কি - রেডিও থেরাপি কোথায় দেওয়া হয়

এই এনজাইম শরীরকে জ্যান্থিন থেকে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করতে সহায়তা করে। যখন রক্তের মধ্যে উচ্চ মাত্রায় ইউরিক অ্যাসিড থাকে, তখন এটি গাউট বা গেঁটে বাত এবং এর সাথে সম্পর্কিত লক্ষণগুলির কারণ হতে পারে। আশা করি ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর ঔষধ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

আমাদের শেষ কথাঃ ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায়

প্রিয় পাঠকগণ আজকের এই আর্টিকেলে ইউরিক এসিড কমানোর এলোপ্যাথিক ঔষধ, এসিড কমানোর ঔষধ, ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর ঔষধ, ইউরিক এসিডের ব্যায়াম, ইউরিক এসিডের ডায়েট চার্ট, ইউরিক এসিডে নিষিদ্ধ খাবার, ইউরিক এসিডের ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে আশা করি উত্তর বিষয়গুলো জানতে পেরেছেন। যদি এই সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে অবশ্যই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে উক্ত বিষয়গুলো জেনে নেবেন।২০৭৯১

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url