মসজিদে দান সদকার ফজিলত -মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত

আপনারা কি মসজিদে দান সদকার ফজিলত বা মসজিদে দান করার ফজিলত আল কাউসার ও মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনাদের জন্য। আজকে আমরা আলোচনা করব মসজিদে দান সদকার ফজিলত, দানের ফজিলত ও ঘটনা বা মসজিদে দানের বয়ান এবং মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে। 
তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেই, মসজিদে দান সদকার ফজিলত, মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং গোপনে দান করার ফজিলত সম্পর্কে।

সূচিপত্রঃ মসজিদে দান সদকার ফজিলত - মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত

মসজিদে দান সদকার ফজিলত| মসজিদে দানের বয়ান

মসজিদে দান সদকার ফজিলত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই আর্টিকেলটিতে মসজিদে দান সদকার ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত করব। মানুষের মৃত্যু বরণ করার সাথে সাথে তার সব দিকের আমলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। শুধুমাত্র কয়েকটা আমল চালু থাকে মৃত্যুর পরেও। তার মধ্যে থেকে মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং মসজিদে দান সদকার ফজিলত অন্যতম। মসজিদে দান সদকার ফজিলত অপরিসীম। হাদিসের মধ্যে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক টাকা দান করবে আল্লাহ তা'আলা সেই দানের বিনিময়ে দশগুণ বৃদ্ধি করে দিবে।

আরো পড়ুনঃ ১৮ সেপ্টেম্বর কি দিবস - ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ - ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলা তারিখ

তবে দান করার মাঝে নিয়ত থাকা লাগবে বিশ্বযুদ্ধ। দানের নিয়ত এমন এমন হওয়া লাগবে যে, আপনি কোন ধরনের বাহবা পাবার জন্য কিংবা লোক দেখানো দান বা মানুষ দানবীর বলবে এ ধরনের কোন কারণ ব্যতীত শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান করতে হবে। তবেই আপনি সেই দান সদকার সওয়াব পাবেন। দানের নিয়ত যেরকম বিশুদ্ধ হবে ঠিক তেমনি আপনাকে এখলাসের সহিত আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য দান করতে হবে। আল্লাহ তাআলা সেই দানের বদলে আপনাকে ১০গুণ বৃদ্ধি করে দেবেন। আপনারা এতিমদের অথবা মসজিদে দান করবেন।

মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত

মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। মসজিদকে ভালোবেসে তার সাথে সম্পর্ক জুড়ে দেওয়া হচ্ছে একজন প্রকৃত ঈমানদারের আলামত। অপরদিকে মসজিদকে ঘৃণা করা হচ্ছে মুনাফিকদের আলামত। সে জন্যই আমাদের হৃদয়টাকে আমরা মসজিদের সাথে জুড়ে দিয়ে থাকি। মসজিদের সাথে যেন আমাদের সুসম্পর্ক থেকে থাকে। মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক। একটা মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা করলে মৃত্যুর পরেও তার আমল নামায় সোয়াব জমা হতেই থাকে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন। সেখানে তিনি একটা মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।

যার নাম হচ্ছে কাবা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানেই যেতেন সেখানে একটা করে মসজিদ নির্মাণ করে আসতেন। এটা ছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটা বৈশিষ্ট্য। মসজিদে যত ব্যক্তি নামাজ পড়বে, কুরআন পড়বে, তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবে, তাসবিহ পড়বে সবগুলো আমলনামা মসজিদ নির্মাণ কারীর আমলে জমা হবে। তাই বলে যে যে এই কাজগুলো করলো তার আমল কাটা যাবে তা কিন্তু নয়। যে আমল করল সে যেমন সাওয়াব পাবে তেমনি যে মসজিদ নির্মাণ করতে সহযোগিতা করেছেন সমপরিমাণ সওয়াব পাবেন। অর্থাৎ মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মসজিদে দান করার ফজিলত আল কাউসার

আল্লাহ তাআলার ঘর হচ্ছে মসজিদ। এতে তার এবাদত ও জিকির করা হয়। তার মহিমা ও বড়ত্বর বর্ণনা করা হয়। তার রুবিয়াত এবং তাওহীদের আলোচনা করা হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, সেই সব গৃহে, যাতে তার নাম স্মরণ করতে ও যাকে মর্যাদা দিতে আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন। সকাল ও সন্ধ্যায় তাতে সেসব লোক তার তাসবিহ করে, যাদেরকে বেচাকেনা ও ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে আল্লাহর স্মরণ এবং যাকাত আদায় ও নামাজ কায়েম থেকে গাফিল করেন না। মসজিদে দান করার ফজিলত আল কাউসার অপরিসীম।

আরো পড়ুনঃ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড এর ব্যবহার

তাই মসজিদে দান কিংবা মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা করা হাজার গুণ সওয়াবের কাজ। এর ফল এ দুনিয়াতে যেমন পাওয়া যাবে তেমনি পরকালেও এর সওয়াব পেতেই থাকবে। মসজিদে দান করার ফজিলত গুলো হলো মসজিদ নির্মাণে কাজ করা, রোজাদার ব্যক্তিরা রমজান মাসে মসজিদে ইফতার করবে, তাহাজ্জুদ ব্যক্তিরা মসজিদে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বে, নামাজি ব্যক্তিরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে, যারা কোরআন শরীফ পড়ে তারা কোরআন শরীফ পড়বে, মসজিদে জামাত করা প্রভৃতি মসজিদে আমল করা হলে এগুলোর পার্সেন্টেজ হিসেবে মসজিদে দান করা বা যে নির্মাণ করেছেন সে পাবে।

দানের ফজিলত ও ঘটনা

দানের ফজিলত ও ঘটনা অনেক। দানের ফজিলত বলে শেষ করা যাবে না। তারপরও আপনাদের মাঝে দানের ফজিলত ও ঘটনা সম্পর্কে কিছু আলোচনা করছি। মনে রাখবেন অন্যান্য দিনের দানের তুলনায় রমজান মাসে এক টাকা দান করলে তার বিনিময়ে ৭০ টাকা দান করার সমান সওয়াব আল্লাহ তায়ালা দিয়ে থাকেন। সেজন্য আপনারা রমজান মাসে বেশি বেশি করে দান সদকা করার চেষ্টা করবেন। এছাড়াও আল্লাহর রাস্তায় দান করলে কখনো কমে না। বরং সে দানের বিনিময়ে আল্লাহ আরো ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করে দেন।

এবং কেয়ামতের দিন ছোট ছোট দানগুলো পাহাড় পরিমাণ হয়ে যায়। হাদীস শরীফে ও দান করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে। বুখারী ও মুসলিম শরীফে এসেছেন, গোপনে যারা দান করেন, মহান আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তাদেরকে আরশের নিচে শান্তি ও ছায়া দান করিবেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গুনাহ এমন ভাবে দান সদকা দ্বারা মিটিয়ে ফেলা হবে যেমন ভাবে পানি দ্বারা আগুনকে নিভে ফেলে। অর্থাৎ জাহান্নামের আগুন থেকে দান সদকা বাঁচায়।

গোপনে দান করার ফজিলত

মানবতার কল্যাণের জন্য পৃথিবীর বুকে ইসলাম এসেছে। মানুষের পাশে সুখে-দুখে দাঁড়ানো, সাহায্যের হাত অন্যের প্রতি বাড়িয়ে দেয়া কে সবচাইতে বড় ইবাদত বলে উল্লেখ করা হয়েছে ইসলামে। অন্যের সাহায্যের প্রতি হাত বাড়িয়ে দেয়ার মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়, নিজের সম্পদ যারা দিনে বা রাতে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে আল্লাহর পথে খরচ করে থাকে প্রতিপালকের কাছে তাদের পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোন চিন্তা নাই, নেই কোন ভয়।(সূরা আল বাকারা, আয়াতঃ ২৭৪)। রাসুলে হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি অসহায়, অভাবী, গরিব, বিধবা এবং মসজিদে সাহায্য করার জন্য আল্লাহর ইবাদতে সময় দিতে পারেনাই, সে দিনভর রোজা রাখার সমান সওয়াব এবং রাত জেগে নফল সালাত আদায় করার সমান সওয়াব পাবে।(বুখারী)।

আরো পড়ুনঃ কানের পর্দা ফেটে গেলে কিভাবে বোঝা যায়

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে এমন লোভনীয় প্রতিদানের আশায় মানুষ মহামারী করনার সময় অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির অর্জনের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী নিজের কষ্টার্জিত টাকা গরীব দুঃখী অসহায় মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে গোপনে দান করার ফজিলত। প্রশংসনীয় কাজ এবং অনেক বড় ধরনের সওয়াবের কাজ। আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেন, হে মোমিন গণ! দানের কথা তোমরা প্রচার করিও না এবং দান নিতে আসা মানুষকে কষ্ট দিয়ে ওই ব্যক্তির মত তোমাদের দানকে ব্যর্থ করিও না, কেবল লোক দেখানোর জন্যই যে নিজের ধন-সম্পদ ব্যয় করে থাকে।(সূরা আল বাকারা, আয়াতঃ ২৬৪)।

শেষ কথাঃ মসজিদে দান সদকার ফজিলত - মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত

মসজিদে দান সদকার ফজিলত এবং মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের পুরো পোষ্টটি ভালোভাবে পড়ুন, আশা করি সবকিছু ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। মসজিদে দান সদকার ফজিলত এবং মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে সবার আগে জানতে হলে আমাদের সাথেই থাকুন।

আজ আর নয়, মসজিদে দান সদকার ফজিলত এবং মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে আপনার কোন কিছু জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আশা করি আমরা আপনার উত্তরটি দিয়ে দেবো। তাহলে আমাদের আজকের এই মসজিদে দান সদকার ফজিলত এবং মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে আপনার ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে আমাদের পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ। ২৩৭৬৬

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url