ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে

আপনারা কি ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে বা ধর্ষণের মেডিকেল টেস্ট কিভাবে করা হয় এবং টু ফিঙ্গার টেস্ট কিভাবে করা হয় এ সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনাদের জন্য। আজকে আমরা আলোচনা করব ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে, ডিএনএ টেস্ট কত দিনের মধ্যে করতে হয় বা ফরেনসিক টেস্ট কিভাবে করা হয় এ সম্পর্কে।

তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেই, ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে এবং ফরেনসিক টেস্ট কেন করা হয় এ সম্পর্কে।

সূচিপত্রঃ ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে

ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে

বর্তমান সমাজে মানুষ প্রতিনিয়ত ধর্ষণের শিকার হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত এ বিষয়টি আমরা টিভি চ্যানেলের নিউজে অথবা পত্রপত্রিকা খোলার সাথে সাথেই এই ধরনের খবরগুলো সামনে এসে যায়। দুঃখের বিষয় হচ্ছে বর্তমান সময়ে এ বিষয়টি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি কেউ ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে অনেকটা ভয়ের কাজ করে। এক্ষেত্রে ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে, ধর্ষিত হলে এর পদক্ষেপ কিভাবে নিবে এবং ধর্ষণের পরীক্ষা কিভাবে হয়। আজকের পোস্টে আমরা আলোচনা করেছি ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে, এর কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে। ধর্ষণের আলামত কত দিন থাকে এ বিষয়ে অনেকেই অনেক রকম মতবাদ দিয়ে থাকেন।

আরো পড়ুনঃ সকালে কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

সাধারণত তিন দিন পর্যন্ত ধর্ষণের আলামত ভালো মতো সংগ্রহ করতে পারা যায়। তবে যদি এক্ষেত্রে দেরি হয়ে যায় তাহলে সমস্যা নাই। ধর্ষণের শিকার হবার পরপরই থানায় গিয়ে জিডি করে করেই ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আলামত গুলা জমা দিয়ে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির পোশাক সহ যে সমস্ত আলামত গুলো আছে সেগুলো দিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকে তর্জনাঙ্গের শুক্রাণু আছে কি নাই সে বিষয়টা ও নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এবং ফরেনসিক বিভাগের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে তার বিভিন্ন আলামত গুলো সংগ্রহ পাঠানো হয়। আর এইসব পরীক্ষা করতে সাধারণত ১০-১২ দিন বা একমাস সময় পর্যন্ত লেগে যায়।

ধর্ষণের মেডিকেল টেস্ট কিভাবে করা হয়| টু ফিঙ্গার টেস্ট কিভাবে করা হয়

ধর্ষণের মেডিকেল টেস্ট কিভাবে করা হয় এবং টু ফিঙ্গার টেস্ট কিভাবে করা হয় তা আজকের পোষ্টের মাধ্যমে আমরা জানব। একজন ধর্ষণের শিকার হাওয়া মেয়ের শরীরে জোর জবরদস্তির লক্ষণ পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। যৌনাঙ্গ, যোনিপথ এবং এর আশপাশ থেকে নমুনা নিয়ে বীর্যের উপাদান খোঁজা হয়ে থাকে। অভিযোগ কারীর রক্ত সহ আলামতের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এমন কি বয়স ও নির্ণয় করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের ধর্ষণের শিকার হওয়া শিশু এবং নারীর শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ব্যবহার করার টু ফিঙ্গার টেস্ট আদালত নিষিদ্ধ করেছে।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ধর্ষণ প্রমাণে শারীরিক পরীক্ষার জন্য এ ধরনের টেস্টের কোন বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নাই। ২০১৩ সালে অর্থাৎ পাঁচ বছর আগে দুই আঙ্গুলের মাধ্যমে ধর্ষণ পরীক্ষার পদ্ধতি বৈধতা বলে চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট ব্লাস্ট, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্রাক সহ কয়েকটা বেসরকারি সংস্থা একটা রিট এর আবেদন করে থাকে। সে সময়ে সে প্রেক্ষাপটে নারী এবং শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথাকথিত টু ফিঙ্গার টেস্ট আইন বহির্ভূত এবং অবৈধ ঘোষণা করা হবে না কেন তা নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেছিলেন, টু ফিঙ্গার টেস্ট নামে বিজ্ঞান চিকিৎসায় কোন পরীক্ষা নেই। অথচ বাংলাদেশের ধর্ষণের শিকার হলে নারী এবং শিশুকে শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে আদালত এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশে এই পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজে হাসপাতালগুলোর ফরেনসিক বিভাগে এই পরীক্ষাগুলো হয়ে থাকে। মিস্টার মাহমুদ বলেন, নারীর একান্ত প্রত্যঙ্গের হাতে গ্লাভস পড়ে আঙ্গুল ভিতরে প্রবেশ করিয়ে তার টেন্ডারনেস পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এ ধরনের টেস্টের নামই টু ফিঙ্গার টেস্ট।

ফরেনসিক টেস্ট কেন করা হয়| ফরেনসিক টেস্ট কিভাবে করা হয়

ফরেনসিক টেস্ট কিভাবে করা হয় এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কতজন মানুষই বা জানে? আজকে এই পোষ্টের মাধ্যমে আমরা জানব ফরেনসিক টেস্ট কিভাবে করা হয়। বাংলাদেশে ফরেনসিক টেস্ট বিষয়টা খুব ভয়াবহ। আমরা এতদিন জানতাম ডাক্তারি পরীক্ষার নামে দ্বিতীয় বার ভিকটিম রেপড হয়। আগে মনে করতাম যে হয়তো পরীক্ষার জন্যই তাকে আবারও রেপ করা হয় এবং রূপক অর্থে এটা ব্যবহার করা হয় এবং বিষয়টা মেন্টাল ট্রমা পুরোটাই। কিন্তু টেস্টের পুরো প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতিটি আসলে একজন নারীর জন্য শারীরিক যৌন নির্যাতন এবং মানসিক সেটা আজকে জানলাম।

আরো পড়ুনঃ ইসলামের প্রথম মসজিদ কোনটি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা এ বিষয়ে কিছু গবেষণা করেছিলেন। গবেষণায় তিনি ফরেনসিক টেস্ট পদ্ধতি এবং এ বিষয়ে তার মতামত বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। আইন এবং মেডিকেলের ধারণায় একজন নারী ধর্ষণের শিকার তখনই হতে পারে তার সতিচ্ছেদ পর্দা এবং যোনির ঘনত্ব যখন অটুট থাকে। বিরাজমান এই নারী বিদ্বেষী মেডিকেল পরীক্ষণ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল পরীক্ষার ফরম্যাট যখন নিজে নিজেই একটা পুরুষালী মতদর্শীক উৎপাদন। নারীর যোনিপথের ঘনত্ব পরিমাপ করে ব্যবহৃত ২ ফিঙ্গার টেস্ট ধর্ষণের সার্ভাইভার, নির্দিষ্ট করে তার হাইমিনের অনুপস্থিতি উপস্থিতি। সাক্ষাৎকারে এক চিকিৎসক জানান, নারীর হাইম্যানকে পরীক্ষার সময় একটা গোলাকার ঘড়ির ফ্রেম হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।

ধর্ষিতার হাইম্যান যদি ঘড়ির কাটার ৩ বা ১০ এর অবস্থানে ছেঁড়া থাকে, তাহলে চিকিৎসকরা ধরে নেন এখানে জড়াজড়ি বা অসম্মতির কোন সেক্স হয়নি। আবার যদি হাইমেন ঘড়ির কাটার ৫ অথবা ৮ এর দিকে অর্থাৎ নিচের দিকে ছিড়ে তাহলে চিকিৎসকরা ঘোষণা করেন যে জোরারোপ করে এই হাইমেন ছেড়া হয়েছে। এর পাশাপাশি টু ফিঙ্গার টেস্টে ব্যবহার করা চিকিৎসকের হাতের আঙ্গুল তার শরীরের গড়ন, আকার ইত্যাদির ভেদে যেরকম বিভিন্ন হয়, একজন চিকিৎসক তেমনি তার আঙ্গুলের বেড়ের সাহায্যে অনুভব করে যে আঙ্গুল কত কঠিন এ বা সহজে যোনিপথে প্রবেশ করছে। এরকম ভীষণ সাবজেক্টিভ পরীক্ষণ পদ্ধতি একটা নারীর শরীরের ভিন্নতর গঠন বাস্তবতাকে কখনোই নির্ণয় করবার ক্ষমতা কখনোই রাখে না।

ডিএনএ টেস্ট কত দিনের মধ্যে করতে হয়

মানুষের মধ্যে ডিএনএ টেস্ট নিয়ে উৎসাহের কোন শেষ নেই। বেশিরভাগ মানুষেরই ধারণা ডিএনএ টেস্ট একেবারেই নিখুঁত। তবে বিশেষজ্ঞ মহলে এই নিয়ে বহু প্রশ্ন রয়েছে। আসলেই কতটা সঠিক ডিএনএ টেস্ট বা ডিএনএ টেস্ট কত দিনের মধ্যে করতে হয় চলুন তা জেনে নেয়া যাক। টিভির পর্দায় ডিটেকটিভ দের গল্প ছোটবেলা থেকেই দেখে বড় হওয়া জেনারেশন এর কাছে ডিএনএ টেস্ট হচ্ছে একেবারেই ডালভাত। মোটামুটি সকলেই জানেন যে এই টেস্টের মাধ্যমে আমাদের পূর্বপুরুষ, স্বাস্থ্যসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের জানাই।

আরো পড়ুনঃ ১৮ সেপ্টেম্বর কি দিবস - ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ - ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলা তারিখ

তবে বর্তমানে একাংশের বৈজ্ঞানিকরা এই টেস্ট নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলেছেন। তাই চলুন জেনে নেয়া যাক ডিএনএ টেস্ট কত দিনের মধ্যে করতে হয় এবং ফরেনসিক টেস্ট কিভাবে করা হয়। এমন অনেক সংস্থা আছে যারা মানুষের নিয়ে পূর্বপুরুষের সংক্রান্ত বিষয় গুলো দেখে। ডিএনএ টেস্টগুলো আমাদের মূলত জিনগত পরিচয় এবং আদিম ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দেই। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য টেস্ট সম্পর্কে একটু হলেও দ্বিধা বিভক্ত।

শেষ কথাঃ ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে

প্রিয় বন্ধুরা আমাদের আজকের পোস্টটি থেকে আপনারা ভালোভাবে জানতে পারলেন ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে ডিএনএ টেস্ট কত দিনের মধ্যে করতে হয় ফরেনসিক টেস্ট কেন করা হয় ইত্যাদি সম্পর্কে। ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে সে সম্পর্কে সবার আগে জানতে হলে আমাদের সাথেই থাকুন। 

আজ আর নয়, ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে সে সম্পর্কে আপনার কোন কিছু জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আশা করি আমরা আপনার উত্তরটি দিয়ে দেবো। তাহলে আমাদের আজকের এই ধর্ষণের আলামত কতদিন থাকে সে সম্পর্কে পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে আপনার ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে আমাদের পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ। ২৩৭৬৬

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url