কিভাবে দোয়া করতে হয় - নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয়

আপনারা কি ইকামতের সময় কিভাবে দোয়া করতে হয় বা নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয় ও মোনাজাত করার দোয়া সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনাদের জন্য। আজকে আমরা আলোচনা করব নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয় বা মহিলাদের মোনাজাত করার নিয়ম, কিভাবে দোয়া করতে হয় বা দোয়া কবুল হওয়ার সূরা সম্পর্কে।
তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেই, নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয়, কিভাবে বুঝব দোয়া কবুল হয়েছে এবং কিভাবে দোয়া করতে হয় সে সম্পর্কে।

সূচিপত্রঃ কিভাবে দোয়া করতে হয় - নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয়

ইকামতের সময় কিভাবে দোয়া করতে হয়

দোয়া হচ্ছে ইবাদত। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত তুমি এমন কারো ইবাদত করিও না, যে তোমার ভালো-মন্দ কিছুই করতে পারবে না। (সূরা ইউনুসঃ আয়াত ১০৬)। মানুষের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করতে হবে। মানুষকে আল্লাহ তাআলার কাছে তার চাওয়া পূরণের জন্য নির্দেশ প্রদান করে বলেছেন,' আমাকে তোমরা ডাকো, তোমাদের ডাকে আমি সাড়া দেব' (সূরা মুমিনঃ আয়াত ৬০)। আল্লাহ তাআলার কাছে কিছু সময় ও স্থান রয়েছেন দোয়া করার জন্য।

আরো পড়ুনঃ সকালে কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

যে স্থান ও সময়ে দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার সকল চাওয়া পাওয়া গুলো কবুল করে থাকেন। আজান ও ইকামতের মাঝে দোয়া করলে, আজান চলাকালীন সময় এবং আজানের পরে দোয়া করলে বান্দার সে দোয়াটি আল্লাহ তায়ালা ফিরিয়ে দেয় না। এ সময়ে দোয়া কবুলের বিষয়টা বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত আছে। হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) তা'আলা আনহু বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ইকামত এবং আজানের মাঝের দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না।(মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, মিশকাত)।

দোয়া কবুল হওয়ার সূরা

রবের দরবারে আমরা দোয়ার মাধ্যমে আমাদের সকল আশা আবেগ আকুতি গুলো তুলে ধরে থাকি। সকল মনোবাঞ্ছনা পূরণ করার জন্য আমরা কান্নাকাটি করে থাকি। দোয়া হচ্ছে সকল মুমিনদের হাতিয়ার। সকল অসম্ভবকে দোয়ার মাধ্যমে সম্ভব করা যেতে পারে। এমনকি ভাগ্য ও ঘুরে যেতে পারে দোয়ার ফলে। রাসুল সাঃ বলেছেন আল্লাহর সিদ্ধান্তকে দোয়া ছাড়া কোন কিছুর মাধ্যমে বদলানো সম্ভব নয়।(তিরমিজিঃ ২১৩৯)। অনত্র নবীজি বলেছে, দোয়া স্বতন্ত্র একটা ইবাদত। (আবু দাউদঃ ১৪৮১)। তাই অনেকে প্রশ্ন করে থাকে কিভাবে দোয়া করতে হয় বা নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয়।

আসলে দোয়া বা মোনাজাত কিভাবে করবে সেটা তার একান্তই ব্যক্তিগত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন বান্দার যেভাবে তার মনের ভাব প্রকাশ করবে আমি সেভাবেই তার দোয়া কবুল করবো। সে ক্ষেত্রে দোয়া কবুলের নির্ধারিত কোন সূরা নাই। তবে ইউনুস দোয়া পড়ে যেকোনো প্রয়োজনে সকল মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর দরবারে দোয়া করে থাকেন। (তিরমিজি, সহিহুল জামি)। অন্য হাদিস অনুসারে, ইউনুস দোয়া পড়লে আল্লাহ তাআলা তার সকল দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন। উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, সুবহা নাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। অর্থঃ হে আল্লাহ তুমি ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই, তুমি মহান এবং পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত। (আম্বিয়াঃ ৮৭)

কিভাবে বুঝব দোয়া কবুল হয়েছে

মানুষ আল্লাহর দরবারে নিজের সকল চাওয়া পূরণের উদ্দেশ্যে দোয়া করে থাকেন। অনেকগুলো চাওয়া পূরণ করার উদ্দেশ্যে আল্লাহর দরবারে দোয়া করে থাকে। দোয়া করার পর অনেকেই বলে কিভাবে বুঝবো দোয়া কবুল হয়েছে কিনা। দোয়া কবুল হওয়ার কিছু ধারণা দেখলে বুঝতে পারবেন আপনার দোয়া কবুল হয়েছে কিনা। দোয়া করার সময় যখন আপনার মধ্যে আন্তরিকতার সৃষ্টি হবে এবং অন্তরের গভীরতা থেকে আপনার দোয়ার শব্দগুলো বের হতে থাকবে তখন বুঝবেন আপনার দোয়া কবুল হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ মহাস্থানগড় কোথায় অবস্থিত - মহাস্থানগড় কোন নদীর তীরে অবস্থিত

এছাড়াও দোয়া করার সময় আপনার শরীরে লোমগুলো আল্লাহর ভয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। দোয়া চাওয়ার সময় আপনার দু চোখ থেকে অশ্রু ঝরে ঝরে পড়তে থাকবে। আল্লাহর কাছে চাওয়ার সময় ভিতর থেকে আগ্রহর সৃষ্টি হবে। দোয়া করার সময় নিজের মধ্যে অনুভূত সৃষ্টি হবে এবং দোয়া করতে আপনার ভালো লাগবে তখনই বুঝবেন আপনার দোয়াগুলো কবুল হচ্ছে। দোয়া করার সময় অনেকেই অমনোযোগী থাকে। অন্তরের ভেতর থেকে দোয়া আসে না, কোনমতে রুটিন মাফিক দোয়া করে থাকে। সে দোয়া করবার সময় নিজেকে আপনি প্রশ্ন করে দেখুন যে, কিভাবে আপনি দোয়া করছেন।

কতটা উদারতা নিয়ে দোয়া করছেন, কতটা গভীর থেকে আপনি দোয়া করছেন। একটু ভেবে দেখবেন তাহলেই বুঝতে পারবেন আপনার দোয়া কতটা কবুল হতে পারে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমরা চোখের পানি ছেড়ে আল্লাহর দরবারে কেঁদে কেঁদে দোয়া কর। কারো চোখে যদি পানি না আসে তাহলে কান্নার ভান করে দোয়া কর। কেননা, বান্দার চোখের পানি আল্লাহ তায়ালার কাছে খুবই পছন্দের।

নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয়| মহিলাদের মোনাজাত করার নিয়ম

নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয় ও মহিলাদের মোনাজাত করার নিয়ম গুলো সম্পর্কে এখন আলোচনা করব। কোরআনে বর্ণিত দোয়া মোনাজাতের জন্য সুনির্দিষ্ট চারটা নিয়ম ও আদব রয়েছে। প্রথমটা হচ্ছে নিজের অপরাগতা ও অক্ষমতা এবং বিনয়নম্রতা প্রকাশ করে দোয়া করা, দ্বিতীয় টা হল সংগোপনে ও চুপি চুপি দোয়া করা। তৃতীয় এবং চতুর্থটা হচ্ছে যথাক্রমে ভয় ও আসান্বিত হয়ে ডাকা আল্লাহ তায়ালাকে। কুরআনুল কারীমের সূরা আল আরাফের আয়াত নাম্বার- ৫৬ তে বলা হয় যে, পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পর সেখানে অশান্তির বিস্তার করিও না এবং অন্তরে আশা ও ভয় রেখে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত কর।

নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী আল্লাহর রহমত। এছাড়াও আল্লাহর কাছেই একমাত্র দোয়া কর। নিশ্চয়ই আমার দোয়া আল্লাহ কবুল করবেন এমন বিশ্বাস নিয়ে দৃঢ়তার সাথে দোয়া কর। দোয়া কর বিনয় এবং একাগ্রতার সাথে। মোনাজাতে দোয়া করার আগে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দুরুদ পড়ো এবং আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করা। সমস্ত অপরাধ ও পাপ থেকে মুক্তি পাবার জন্য তওবা করা। নেক আমল এর উসিলা দিয়ে দোয়া চাওয়া। বারবার দোয়া করতে থাকা এবং দোয়ার শেষে আমিন বলে শেষ করা। 

মোনাজাত করার দোয়া

মোনাজাত করার দোয়া হচ্ছে-

আরবি উচ্চারণঃ ربنا اتنا في الدنيا هاشنه وفي الاخره حسنه وقنا عجبنا

বাংলা উচ্চারণঃ রাব্বানা আ'তিনা ফিদ্দুনিয়া হা'সানাতাও-ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া-ক্বিনা আযাবান্নার।

বাংলা অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক! দুনিয়ার জীবনে আমাদেরকে কল্যাণ দান করো এবং কল্যাণ দান কর পরকালের জীবনেও। আর আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে তুমি বাঁচাও। সূরা আল বাকারাহঃ ২০১।

নেককার স্বামী স্ত্রী এবং সন্তান পাবার জন্য বা স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান ধার্মিক হবার জন্য দোয়াঃ

আরবি উচ্চারণঃ ربنا هب لنا من اجوادنا وجريتنا كره عين واجعلنا متقين اماما

বাংলা উচ্চারণঃ রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা ক্বুররাতা আ'ইয়ুন ওয়াজাআ'লানা মুত্তাক্বীনা ইমামা।

বাংলা অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে এবং আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে চোখের শীতলতা দান করো আমাদের জন্য এবং মুত্তাকীদের জন্য আমাদেরকে আদর্শ স্বরূপ কর। (সূরা আল ফুরকানঃ আয়াত- ৭৪)

পিতা মাতার জন্য দোয়াঃ পিতা-মাতা জীবিত বা মৃত দুইজনের জন্যই এ দোয়া পাঠ করতে পারবেন।

আরবি উচ্চারণঃ ربي ارحمهما كما ربياني صغيرا

বাংলা উচ্চারণঃ রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সাগিরা।

বাংলা অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা! আমার পিতা-মাতার প্রতি আপনি তেমনি দয়া কর, শিশু অবস্থায় তারা আমাকে যেরকম দয়া করেছিল।

আরবি উচ্চারণঃ ربنا جلمنا انفسنا وان لم تغفر لنا وترحمنا لنا كونا من الخاسرين

বাংলা উচ্চারণঃ রাব্বানা জোয়ালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগ-ফিরলানা, ওয়াতার হা'মনা লানা কুনান্না মিনাল খাসিরিন।

আরো পড়ুনঃ দেওয়ানী মামলা করার নিয়ম - দেওয়ানী মামলা কত প্রকার

বাংলা অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক! নিজেদের প্রতি আমরা জুলুম করেছি, অতএব যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন তাহলে আমরা নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব। সূরা আল আরাফঃ ২৩।

আশাকরি আমাদের পোস্ট পড়ে মোনাজাতের দোয়া, বাংলা উচ্চারণ এবং বাংলা অর্থসহ মোনাজাত করার দোয়া জানতে পেরেছেন।

শেষ কথাঃ কিভাবে দোয়া করতে হয় - নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয়

কিভাবে দোয়া করতে হয় এবং নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের পুরো পোষ্টটি ভালোভাবে পড়ুন, আশা করি সবকিছু ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। কিভাবে দোয়া করতে হয় এবং নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে সবার আগে জানতে হলে আমাদের সাথেই থাকুন।

আজ আর নয়, কিভাবে দোয়া করতে হয় এবং নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে আপনার কোন কিছু জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আশা করি আমরা আপনার উত্তরটি দিয়ে দেবো। তাহলে আমাদের আজকের এই কিভাবে দোয়া করতে হয় এবং নামাজের শেষে মোনাজাত কিভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে আপনার ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে আমাদের পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ। ২৩৭৬৬

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url